শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা অবকাশে পর্যটকে মুখর হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলো। চা-বাগান, বন, হাওর, লেক ও জলপ্রপাতের আকর্ষণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের বাড়তি চাপে জেলার প্রায় সব হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ বুকড হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জেলার সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি জেলায় রয়েছে দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট, যার বড় একটি অংশ শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত। দীর্ঘ চার মাস পর দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের আশানুরূপ আগমনে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে শত শত দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে তাঁরা উদ্যানের ভেতরের পথ ধরে হেঁটে উপভোগ করেন বন ও প্রকৃতির সৌন্দর্য।

লাউয়াছড়া ছাড়াও কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স, হামহাম জলপ্রপাত, মণিপুরি ও খাসিয়া পল্লি, শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি-৭১, নীলকণ্ঠ টি কেবিন ও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে পর্যটকদের ভিড় ছিল। এ ছাড়া বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এবং হাকালুকি হাওরেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় শ্রীমঙ্গল শহর ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক লিজা বেগম বলেন, “মৌলভীবাজারের চারদিকে সবুজের সমারোহ। এখানে এলে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করে।”

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা নুসরাত জাহান বলেন, “এখানে একই সঙ্গে চা বাগান, বন, হাওর ও জলপ্রপাত দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের সড়ক যোগাযোগ আরও উন্নত করা প্রয়োজন।”

পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাউয়াছড়াসহ প্রধান বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হোসেন চৌধুরী।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, টানা ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে অতিরিক্ত টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।