রাঙামাটি: সড়ক অবরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক উপত্যকা। সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে আপাতত সাজেকে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এতে পরিবহন, আবাসন ও স্থানীয় সেবাখাতের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সাজেক পর্যটন সড়কের উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে ফেরাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় তাঁদের সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ শিথিল থাকলেও ২২ অক্টোবর থেকে তা আবার শুরু হয়। ফলে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রমে নতুন করে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় পর্যটকদের সেখানে প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।

সাজেক পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. আরিফ জানান, প্রতিদিন অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যেত। তবে অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সাজেকগামী কোনো পরিবহন ছেড়ে যায়নি। টিকিটপ্রত্যাশীদের পরিস্থিতি জানিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সাজেক জিপগাড়ির চালক ইব্রাহিম বলেন, ‘সাজেকে অবরোধে সড়ক বন্ধ থাকায় আমাদের গাড়ি বসে আছে। গাড়ি চালাতে না পারায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে অবরোধ হলে আমাদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।’

সিএনজিচালক মো. রাসেল মিয়াও দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাজেকে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকলে আমাদেরও কাজ থাকে না। আমরা চাই দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হোক।’

সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হচ্ছে এবং অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সড়ক অবরোধে শুধু পর্যটক ও ব্যবসায়ীরাই নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়াও ব্যাহত হয়।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সাজেকের পর্যটন ব্যবসায় অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।