স্ট্যালিনের কৃষ্ণসাগরের আড়াল করা ভিলা থেকে শুরু করে উগান্ডার বন্যপ্রকৃতিতে ইদি আমিনের সাফারির আস্তানা— অতীত ও বর্তমানের একনায়করা অবসাদ কাটাতে খুঁজে নিয়েছিলেন কিছু অসাধারণ ও আকর্ষণীয় স্থান।

কেউ আশ্রয় নিয়েছিলেন কৌতূহলী চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রাজকীয় সব বাসভবনে, কেউ আবার ছুটে গেছেন জমকালো সমুদ্র সৈকতের রিসোর্টে কিংবা মেতে উঠেছেন ব্যক্তিগত শিকারে। এসব শাসকদের কাছে ছুটির অর্থ ছিল একচ্ছত্র ও একান্ত আশ্রয়স্থল, জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ এবং সাধারণ নাগরিকদের নাগালের বাইরে থাকা চরম বিলাসিতা।
এখানে একনজরে দেখে তুলে ধরা হলো ইতিহাসের কিছু একনায়কের অবকাশযাপনের রকমফের। প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ডেইলি মেইলের সংবাদ ধরে।

কিম জং উন, উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের অবকাশযাপনের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুইমিং পুল ও পানির স্লাইডযুক্ত বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে তার সময় কাটানোর খবর সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির মূল্য আনুমানিক ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড।
দেশটির উপকূলীয় শহর ওনসান ধনীদের অবকাশকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে একাধিক বড় জাহাজ দেখা গেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে প্রায় ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি বিলাসবহুল জাহাজের সন্ধান পাওয়া যায়, যাতে রয়েছে সুইমিং পুল ও পানির স্লাইড। এর তুলনায় কিমের ২৯ মিটার দীর্ঘ প্রিন্সেস ব্র্যান্ডের আরেকটি প্রমোদতরির মূল্য প্রায় ৫২ লাখ পাউন্ড।

জোসিপ ব্রজ টিটো, যুগোস্লাভিয়া
স্লোভেনিয়ার লেক ব্লেড ছিল তাঁর পছন্দের অবকাশকেন্দ্র। ভিলা ব্লেডে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের আতিথ্য দিতেন। অতিথিদের নিয়ে আশপাশের জাতীয় উদ্যানেও শিকারে যেতেন।

জোসেফ স্টালিন, সোভিয়েত ইউনিয়ন
জনদৃষ্টি থেকে দূরে থাকতে তাঁর ছিল পাঁচটি অবকাশনিবাস। আবখাজিয়ার লেক রিৎসার কাছে বনভূমির মধ্যে তৈরি একটি বাড়ি গাছপালা ও সবুজ রঙের আড়ালে এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যাতে আকাশ থেকেও সহজে দেখা না যায়।

নিকোলাই চাউশেস্কু, রোমানিয়া
কৃষ্ণসাগরের নেপচুন অবকাশকেন্দ্র, কার্পাথিয়ান পর্বতমালার ভিলা পালতিনু এবং স্নাগভ প্রাসাদ ছিল তাঁর পছন্দের জায়গা। ১৯৮৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তিনি ও তাঁর স্ত্রী স্নাগভ প্রাসাদে আশ্রয় নেন। পরে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ভ্লাদিমির পুতিন, রাশিয়া
তাঁর অবকাশযাপন সম্পর্কে তথ্য গোপন রাখা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সাইবেরিয়ার পাহাড়ি এলাকা ও আলতাই অঞ্চলে তাঁর নির্জন অবকাশকেন্দ্রের কথা উঠে এসেছে।

সাদ্দাম হুসেইন, ইরাক
ফ্রান্সের কান শহরের কাছে গ্রাস এলাকায় তাঁর একটি অবকাশবাড়ি ছিল বলে জানা যায়। বাড়িটি বর্তমানে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ।

বেনিতো মুসোলিনি, ইতালি
গ্রীষ্মে রিচ্চিওনের সমুদ্রসৈকত এবং শীতকালে মাউন্ট তেরমিনিলো ছিল তাঁর পছন্দের গন্তব্য। লেক গার্দার গ্র্যান্ড হোটেল ফেলত্রিনেল্লি ও অ্যাপেনাইন পর্বতমালার হোটেল ক্যাম্পো ইম্পেরাতোরেও তিনি সময় কাটাতেন।

ইদি আমিন, উগান্ডা
মুর্চিসন ফলস জাতীয় উদ্যানের পাকুবা লজ ছিল তাঁর ব্যক্তিগত অবকাশকেন্দ্র। একসময় রাষ্ট্রীয় অতিথিদেরও সেখানে আতিথ্য দেওয়া হতো। বর্তমানে লজটির কেবল ধ্বংসাবশেষ টিকে আছে।