কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে ১৪তম বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। তিন দিনব্যাপী এ মেলায় ২০টির বেশি দেশের পর্যটন প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে ৬০ হাজারের বেশি সাধারণ দর্শনার্থী সমাগম হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড টুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। পর্যটনসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো, টেকসই গন্তব্য উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল এবারের মেলার অংশীদার দেশ।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল এবং ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য ক্রেতা ও আড়াই হাজারের বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফের মতো আয়োজন দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এ খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, টানা ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এ মেলার মাধ্যমে দেশীয় পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস রয়েছে উড়োজাহাজ পরিবহন অংশীদার হিসেবে এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট আতিথেয়তা অংশীদার হিসেবে। আয়োজনে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।