রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটন ব্যবসা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকা রিসোর্ট-কটেজ, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাটে এখন নেই আগের ব্যস্ততা। পর্যটক না থাকায় আয় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ওষুধের সংকটের আশঙ্কাও বাড়ছে।
অবরোধের সপ্তম দিনে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বহুমুখী সংকটে পড়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে কিংবা দুর্ঘটনায় আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কমছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের বরাতে জানা গেছে, পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় চাল, চিনি, ডাল ও সয়াবিন তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ কমছে। একই সঙ্গে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পর্যটন বন্ধ, আয়ও বন্ধ
সাজেকের অর্থনীতির বড় অংশ পর্যটননির্ভর। রিসোর্ট-কটেজ, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও মুদি দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জীবিকা। পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের আয় প্রায় থমকে গেছে। তবে দোকানভাড়া, রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন ও পারিবারিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাঁর রেস্তোরাঁয় আটজন কর্মচারী কাজ করেন। অবরোধের কারণে তাঁরা কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। রেস্তোরাঁর জন্য কেনা খাদ্যসামগ্রীও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক না থাকলেও রিসোর্ট-কটেজে অনেক কর্মচারী অবস্থান করছেন। কিন্তু যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তাঁদের প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না। এতে কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন মৌসুমে যে কর্মচাঞ্চল্য স্থানীয় মানুষের আয়ের উৎস হয়ে ওঠে, অবরোধে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আয় বন্ধ হলেও জীবনযাপনের খরচ অব্যাহত রয়েছে। ফলে দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, রেস্তোরাঁকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
বৈঠকেও কাটেনি অচলাবস্থা
সংকট নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর স্থানীয় প্রশাসন ও অবরোধকারীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অবরোধকারীদের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও মূল দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।
ফলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান আসেনি। পর্যটন, পণ্য পরিবহন ও স্থানীয় জনজীবনে অচলাবস্থার প্রভাবও অব্যাহত রয়েছে।