বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কইনলেট।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদারে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এ খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদান রাখে।
তিনি বলেন, ‘পর্যটন একটি দেশের হৃদয় ও আত্মাকে জানার সুযোগ করে দেয়।’ ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও গড়ে ওঠে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের ফিলিপাইন ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়ে কইনলেট দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি সুন্দর দেশ। দেশটির মানুষ দয়ালু ও অতিথিপরায়ণ।’ সেখানে ভ্রমণকারীরা আন্তরিক আতিথেয়তা পাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ১০ শতাংশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পর্যটনের অবদান রয়েছে। প্রতি ১০টি কর্মসংস্থানের অন্তত একটির সঙ্গে এ খাতের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই-পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় টেকসই পর্যটনচর্চা জরুরি। তাঁর ভাষায়, ‘আজ আমরা যা পেয়েছি, তা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে।’
প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পর্যটনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক চর্চা সংরক্ষণ এবং পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (টোয়াব) আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনীর আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের আরও অগ্রগতি কামনা করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে বিটিটিএফের ১৪তম আসরের উদ্বোধন করেন।
টোয়াব আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ মেলা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিমান সংস্থা, হোটেল, ভ্রমণ সংস্থা ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রদর্শনীতে ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।