শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক অবসরে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখতে গিয়ে শ্রীমঙ্গল শহরের যানজটে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

মঙ্গলবার ও বুধবার সরেজমিনে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে, কেউ দলবেঁধে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উদ্যানের সবুজ বনভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

মৌলভীবাজারের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। জেলার উল্লেখযোগ্য গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মাধবপুর লেক, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর, মনিপুরী পল্লী, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স, মনু ব্যারাজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, ডিনস্টন সিমেট্রি, চা-কন্যা ভাস্কর্য, নীলকণ্ঠ টি কেবিন ও সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা। পাশাপাশি চা-বাগানের সবুজ প্রকৃতিও পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহার পর প্রায় চার মাসের বিরতি শেষে পূজার ছুটিতে আবার পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। তাঁদের ভাষ্য, মৌলভীবাজারে অন্তত ১০ হাজার পরিবার পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। পর্যটকের সংখ্যা কমে গেলে এসব পরিবারের জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এবার পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় কিছুটা প্রাণ ফিরেছে।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আবিদ চৌধুরী বলেন, এক বছর পর আবার মৌলভীবাজারে এসেছেন। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক দৃশ্য অসাধারণ। তবে এক পর্যটনকেন্দ্র থেকে অন্যটিতে যাওয়ার যোগাযোগব্যবস্থা খুবই নাজুক।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকেরা এসেছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সব সময় কাজ করছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, চার প্রজাতির উভচর, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি ও ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।