দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশে পর্যটকে মুখর বান্দরবান। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, করোনাভাইরাস মহামারির পর এবারই প্রথম বান্দরবানের আবাসন খাতে শতভাগ বুকিং হয়েছে। পর্যটকের চাপ বাড়ায় আবাসন ও যানবাহনসংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকেই মেঘলা ও নীলাচলসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় দেখা যায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা এসেছেন। সাধারণত বিকেলে এসব কেন্দ্রে ভিড় বাড়লেও এবার সকাল থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়।
পর্যটকবাহী গাড়ির সংকট
জেলার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য চাঁদের গাড়ির স্টেশনে পর্যটকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, ৪৫ জনের একটি দল নিয়ে তাঁরা বান্দরবানে এসেছেন। চিম্বুক, নীলগিরি ও নীলাচল ঘুরে বুধবার কক্সবাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
গাজীপুরের পর্যটক রিফাত হোসেন জানান, তাঁরা নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও চিম্বুক ঘুরে রাতে ফিরে যাবেন। অন্যদিকে রংপুর থেকে আসা ১৪ জনের একটি দল বগালেক ও দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং দেখতে এসেছে।
চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি পর্যটকবাহী গাড়ি দেবতাখুম, নীলগিরি, চিম্বুক, রুমা ও থানচির দিকে গেছে। তাঁদের কাছে প্রায় ৪২০টি চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস রয়েছে। পর্যটকের চাপ অব্যাহত থাকলে সবার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা কঠিন হতে পারে। বুধবারও যানবাহনের সংকট থাকতে পারে।
মাসের শেষ পর্যন্ত আবাসনসংকটের আশঙ্কা
মেঘলা পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক মো. শোয়েব জানান, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোটেলের কোনো কক্ষ খালি নেই। প্রতিদিন কক্ষের জন্য পর্যটকেরা যোগাযোগ করলেও নতুন করে বুকিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হোটেল দি মোরের ব্যবস্থাপক মো. জুবায়ের বলেন, মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত হোটেলের সব কক্ষ বুকিং রয়েছে। ২৫ ও ২৬ অক্টোবর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে ২৭ অক্টোবর থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত আবারও সব কক্ষ পূর্ণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন জানান, বান্দরবান শহর এবং রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ২৫০টি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পর্যটকের রাত যাপনের ব্যবস্থা আছে। এবার সব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বুকিং হওয়ায় অনেক পর্যটককে আবাসন দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
প্রবারণা উৎসব ঘিরে বাড়তি আগ্রহ
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর গোপা বিশ্বাস বলেন, দুর্গাপূজার পরপরই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা উৎসব থাকায় পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর মারমা বৌদ্ধদের ঐতিহ্যবাহী ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ উৎসব ঘিরেও পর্যটকদের আগ্রহ রয়েছে।
এরপর দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড় অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে জেলা প্রশাসন।