নিউইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিসের মতো পরিচিত মহানগরের বাইরে পর্যটকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে বিশ্বের কয়েকটি দ্রুত পরিবর্তনশীল শহর। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নত পরিবহনব্যবস্থা, নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং বদলে যাওয়া নগরজীবনের কারণে এসব শহর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ২৮টি শহরকে ‘সিটিজ টু ওয়াচ’ বা ‘নজরে রাখার মতো’ শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, এ তালিকায় এমন শহরগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর দ্রুত বিকাশ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক প্রভাব বাড়াতে পারে। তালিকা থেকে নির্বাচিত পাঁচটি শহরের বিশেষত্ব তুলে ধরেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা।
ফ্রান্সের টুলুজ ইউরোপের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর একটি। আগামী চার বছরে শহরটির জনসংখ্যা ৫৭ হাজার বাড়তে পারে, যা ফ্রান্সের অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় বেশি। তুলনামূলক সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা, মৃদু আবহাওয়া, খাবারের বৈচিত্র্য ও উন্নত জীবনমান তরুণ পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করছে। শহরটি মহাকাশ ও উড়োজাহাজশিল্পেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে রয়েছে এয়ারবাসের বৈশ্বিক সদর দপ্তর, সিত দ্য ল'এস্পাস মহাকাশবিষয়ক কেন্দ্র এবং অ্যারোস্কোপিয়া বিমান জাদুঘর। পাশাপাশি শিল্প ও প্রকৌশলের সমন্বয়ে তৈরি লা আল দ্য লা মাশিন দর্শনার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা দেয়।
ভিয়েতনামের বৃহত্তম শহর হো চি মিন সিটি দ্রুত অর্থনৈতিক ও পর্যটন বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে এটি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল ৫০টি শহরের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে চালু হওয়া শহরটির প্রথম মেট্রোরেল যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পর্যটকেরা ফরাসি ঔপনিবেশিক আমলের কেন্দ্রীয় ডাকঘর ও অপেরা হাউস, যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে ওয়ার রেম্ন্যান্টস মিউজিয়াম এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। ঐতিহাসিক চোলন এলাকায় রয়েছে বাজার, মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী ওষুধের দোকান। অন্যদিকে, থাও দিয়েন এলাকায় রয়েছে স্বাধীন ব্র্যান্ডের দোকান, গ্যালারি ও ক্যাফে।
পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে ১০০টিরও বেশি অবস্থান এগিয়ে ৬১তম স্থানে উঠেছে। শহরটির জীবনমানের সূচক লন্ডন, নিউইয়র্ক ও টোকিওকেও ছাড়িয়ে গেছে। আগামী বছরগুলোতে এর অর্থনীতি বছরে প্রায় ৩ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আধুনিক আকাশচুম্বী ভবন, পরিচ্ছন্ন সড়ক ও নিরাপদ নগরজীবনের পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুনর্নির্মিত ঐতিহাসিক ওল্ড টাউন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পোলিশ ডোনাট পোনচকি এবং ঐতিহ্যবাহী মিল্ক বারে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
কলম্বিয়ার মেদেলিন একসময় নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণার কারণে পরিচিত থাকলেও এখন শিল্প, নকশা, খাবার ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। ব্যবসা ও আর্থিক সেবায় কর্মসংস্থান গত ২০ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। শহরের মেট্রোকেবল কেবলকার ব্যবস্থা পাহাড়ি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করেছে। কমুনা ১৩ এলাকার দেয়ালচিত্র, চলন্ত সিঁড়ি ও সংগীত এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। এ ছাড়া পারপেতুও সোকোরো, পোব্লাদো ও লরেলেস এলাকায় রয়েছে সৃজনশীল উদ্যোগ, গ্যালারি এবং বিশেষায়িত কফিশপ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আবাসন ও আর্থিক খাতে বৈচিত্র্য আনছে। কর্মীদের দক্ষতা ও শিক্ষার সূচকে গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে শহরটির অবস্থান ষষ্ঠ। আধুনিক নগরজীবনের পাশাপাশি সৈকত, ম্যানগ্রোভ বন ও তুলনামূলক শান্ত আবাসিক এলাকার সমন্বয় শহরটিকে বিশেষ আকর্ষণ দিয়েছে। সাদিয়াত দ্বীপে ২০২৫ সালে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম আবুধাবি ও জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম চালু হয়েছে। ফ্র্যাঙ্ক গেরির নকশায় নির্মিত গুগেনহাইম আবুধাবি ২০২৬ সালের ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধনের জন্য নির্ধারিত।