বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানি বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধি দল। এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন অবকাঠামো, আবাসন ও পর্যটকসেবা উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে বিনিয়োগের প্রস্তাবটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
রোববার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধিরা এ আগ্রহের কথা জানান। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন এবং এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। পর্যটন অবকাঠামো ও আতিথেয়তাসংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নেও সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান তারা।
বিনিয়োগের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার এমন দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করবে, যাতে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ উভয়ই লাভবান হয়।
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। সুন্দরবন, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত এবং সিলেটের চা-বাগান এ সম্ভাবনার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশটির বিনিয়োগ ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য পর্যটন গন্তব্য পরিদর্শন এবং বিনিয়োগের সুযোগ মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল উদ্যোগ নেবে বলে জানান তিনি।
জাপানি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তারা সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।