বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্তজীবন ও বাণিজ্যিক পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ রয়েছে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়ায়। মুহুরি নদীর তীরবর্তী এই সীমান্ত এলাকায় রয়েছে বিলোনিয়া স্থলবন্দর। প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, এমন ভ্রমণপিপাসুদের জন্য জায়গাটি হতে পারে ঘুরে দেখার একটি বিকল্প গন্তব্য।

সীমান্তের কাছাকাছি অন্যরকম অভিজ্ঞতা

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া এলাকা ও মুহুরীঘাট অবস্থিত। দুই দেশের কাছাকাছি অবস্থান এবং সীমান্তকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এই এলাকার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে পরশুরাম উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার। উপজেলা সদর থেকে বিলোনিয়া স্থলবন্দর প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে। ফলে সড়কপথে ফেনী হয়ে সহজেই এই এলাকায় যাওয়া যায়।

বিলোনিয়া স্থলবন্দর মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ২০০৯ সালে বিলোনিয়া শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বন্দরটির অবকাঠামো উন্নয়নেও বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুহুরি নদী ও সীমান্তের পরিবেশ

বিলোনিয়া ভ্রমণের আকর্ষণ শুধু স্থলবন্দর ঘিরে নয়। মুহুরি নদী ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশও দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি করতে পারে। সীমান্ত এলাকার দৈনন্দিন জীবন, স্থানীয় মানুষের চলাচল এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড কাছ থেকে দেখার সুযোগ রয়েছে এখানে।

তবে এটি মূলত বাণিজ্যিক ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকা, পর্যটকদের জন্য গড়ে ওঠা পূর্ণাঙ্গ বিনোদনকেন্দ্র নয়। তাই ভ্রমণের আগে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। অনুমতি ছাড়া সীমান্তের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়কপথে ফেনী হয়ে পরশুরাম উপজেলা সদরে যেতে হবে। সেখান থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পেরোলেই বিলোনিয়া স্থলবন্দর এলাকা। ফেনী শহর থেকেও সড়কপথে পরশুরাম হয়ে সেখানে যাওয়া যায়।

বিলোনিয়া স্থলবন্দরকে ঘিরে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর কার্যক্রমে ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে রপ্তানি অব্যাহত থাকলেও আমদানিতে ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ এবং যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

সব মিলিয়ে, ফেনী ভ্রমণে সীমান্ত এলাকার স্বতন্ত্র পরিবেশ ও মুহুরি নদীর আশপাশ দেখতে চাইলে বিলোনিয়াকে ভ্রমণতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে যাওয়ার আগে সীমান্ত এলাকার প্রবেশবিধি ও স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি জেনে নেওয়াই ভালো।