শুধু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখাই নয়, মরক্কো ভ্রমণে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, বৈচিত্র্যময় আবাসন ও রোমাঞ্চকর কার্যক্রম উপভোগেরও সুযোগ মেলে। উত্তর আফ্রিকার দেশটির মারাকেশের ঐতিহাসিক মদিনা, এসাওইরার উপকূল ও আগাফে মরুভূমি পর্যটকদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে হাজির হয়।
সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে দেখা স্থান সরাসরি ঘুরে দেখার প্রবণতা, অর্থাৎ ‘সেট-জেটিং’ মরক্কোর পর্যটন আকর্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শহরের পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকার অভিজ্ঞতা
মারাকেশের ঐতিহাসিক মদিনার কেন্দ্রে অবস্থিত দ্য মেলাহ হোটেল পর্যটকদের জন্য ব্যতিক্রমী আবাসন। সরু গলির মধ্যে অবস্থিত এই হোটেলের আশপাশে দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, ব্যস্ত সড়ক, স্কুটারের চলাচল এবং গাধার গাড়িতে পণ্য পরিবহনের দৃশ্য।
হোটেলটিতে শিল্পী মুস লামরাবাতের শিল্পকর্ম, খোলা প্রাঙ্গণ ও স্বতন্ত্র নকশার কক্ষ রয়েছে। কক্ষগুলোর সাজসজ্জা আলাদা। ফলে বুকিংয়ের সময় পছন্দ অনুযায়ী কক্ষ নির্বাচন করাটা গুরুত্বপূর্ণ। মারাকেশে থাকার বিকল্প হিসেবে এল ফেন ও লা মামুনিয়া হোটেলও পরিচিত।
উপকূলীয় শহর এসাওইরা ঘুরে দেখুন
মারাকেশ থেকে গাড়িতে এসাওইরা যেতে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে। মরক্কোর স্থানীয় জীবনযাত্রা এবং পর্যটনকেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ জানতে এই উপকূলীয় শহরে এক দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
এসাওইরায় রয়েছে মাছ ধরার বন্দর, বালুকাময় সৈকত এবং শহরের প্রবেশপথ ঘিরে থাকা বিশাল প্রাচীর। দ্য ওডিসি চলচ্চিত্র ও গেম অব থ্রোনস সিরিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিত্রায়ণের স্থান হিসেবেও এখানকার কিছু এলাকা পরিচিত। কেনাকাটার জন্যও শহরটি আকর্ষণীয়। স্থানীয় বাজারে মসলা, সিরামিক ও বিভিন্ন অনুষঙ্গ পাওয়া যায়; কিছু পণ্যের দাম মারাকেশের তুলনায় কম হতে পারে।
ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিন
মরক্কোর খাবারের অন্যতম আকর্ষণ তাজিন। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সালাদ ও ঐতিহ্যবাহী পদ। মারাকেশের দার মোহা রেস্তোরাঁয় বেগুনের সালাদ ‘জালুক’ এবং ‘পাস্তিলা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশনের জায়গার মাঝখানে থাকা বড় সুইমিং পুলও পরিবেশটিকে অনন্য করে তুলেছে। নিরামিষ খাবারের বিকল্প খুঁজছেন, এমন পর্যটকদের জন্যও স্থানীয় মেনু ঘেঁটে পছন্দের পদ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অ্যাডভেঞ্চারে কাটুক ছুটির সময়
এক্সপিডিয়ার ‘আনপ্যাক ২০২৭’ ভ্রমণ প্রবণতা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ‘আন-অ্যাডাল্টিং’ ধারণা। এর মূল কথা হলো, দৈনন্দিন দায়িত্ব ও মানসিক চাপ থেকে বিরতি নিয়ে শিশুসুলভ আনন্দে মেতে ওঠা।
মরক্কোয় গরম বাতাসের বেলুনে চড়া, আগাফে মরুভূমিতে ডিউন বাগি চালানো এবং সিনেমায় দেখা স্থান ঘুরে দেখার মাধ্যমে এই অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব। মরুভূমির প্রাকৃতিক দৃশ্য ও রোমাঞ্চকর কার্যক্রম ভ্রমণে যোগ করতে পারে নতুন মাত্রা।
মরক্কো ভ্রমণের পরিকল্পনায় তাই মারাকেশে ঐতিহ্যবাহী হোটেলে থাকা, এসাওইরার উপকূল ঘুরে দেখা, স্থানীয় খাবার উপভোগ এবং মরুভূমিতে অ্যাডভেঞ্চারের জন্য সময় রাখা যেতে পারে। এসব অভিজ্ঞতা দেশটির সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে জানার সুযোগ করে দেয়।