ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের হামলার জেরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর হুথি বিদ্রোহীদের প্রাণঘাতী হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখায় বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরের পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশটির দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানিয়েছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সাময়িকভাবে সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস। লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি রাজধানীতে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। একই পথে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে এমিরেটস, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই ও কাতার এয়ারওয়েজ। এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম রিয়াদে যাতায়াতকারী ফ্লাইট স্থগিত রাখার মেয়াদ অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ৫৭২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
হুথিদের হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) সৌদি আরবের মদিনা বিমানবন্দর ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপদ মনে হলে ব্রিটিশ নাগরিকদের স্থলপথে সৌদি আরব ত্যাগের বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
এফসিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা ইএএসএও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের প্রভাবে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। সৌদি আকাশসীমায় উল্লেখযোগ্য সামরিক তৎপরতাও চলছে।
ইএএসএ আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো থেকে বোঝা যায়, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে রিয়াদ, তাবুক, মদিনা ও ইয়ানবুসহ আরও গভীর অঞ্চলে হামলা চালানোর সক্ষমতা ও ইচ্ছা হুথিদের রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা এবং সরকারি ভ্রমণ নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।