নিরাপত্তাজনিত কারণে রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এতে দুর্গাপূজার ছুটি ও শীতকালীন পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাত মিলিয়ে আগামী ১০ দিনে ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে গত রোববার সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে নিরাপদে এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের ডাকা সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন পর্যটকেরা। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নেয়।

পরিবহন খাতেই ক্ষতি ২ কোটি টাকার বেশি

সাজেক গাড়ির লাইনম্যান মো. ইয়াছিন আরাফাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাধারণত শুক্র ও শনিবার ছাড়া অন্য দিনগুলোতে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করে। গত শনিবার রাতেও ৫৮টি গাড়িতে প্রায় ৫০০ পর্যটক এসেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রিসোর্ট মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাজেকে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩৫টি রিসোর্ট এবং শতাধিক রেস্তোরাঁ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০০টি পর্যটকবাহী গাড়ি সাজেকে আসা-যাওয়া করে। প্রতিটি গাড়ির গড় ভাড়া প্রায় ১৩ হাজার টাকা। এই হিসাবে ১০ দিনে পরিবহন খাতে সম্ভাব্য ব্যবসার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

তবে সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ১০ দিনে পরিবহন খাতে অন্তত ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার ব্যবসা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

পূজার ছুটির বুকিং বাতিল

অবকাশ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেকের অধিকাংশ রিসোর্ট ও কটেজের বুকিং আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। বিশেষ করে দুর্গাপূজার ছুটি উপলক্ষে ১৯ অক্টোবর থেকে শতভাগ বুকিং ছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন অগ্রিম বুকিং বাতিল করে টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে।

রিসোর্ট মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, সাজেকের ১৩৫টি রিসোর্টে প্রায় ৬৭৫টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষের ভাড়া থেকে প্রতিদিন অন্তত ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। আগামী ১০ দিনে কেবল কক্ষ ভাড়া থেকেই সম্ভাব্য ক্ষতি হবে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য দোকানের ক্ষতি যোগ হলে মোট ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ন দেব বর্মন বলেন, ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টগুলোর শতভাগ বুকিং ছিল। অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞায় পুরো পর্যটন ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সাজেকের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ মালিকদের পাশাপাশি জিপচালক, পরিবহনকর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হস্তশিল্প বিক্রেতারাও জড়িত। নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে এসব মানুষের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়তে পারে।