কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে তলিয়ে আছে রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। এক মাস ধরে সেতুর পাটাতন ডুবে থাকায় সেখানে পর্যটকদের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেতু দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে। পর্যটক কমে যাওয়ায় আয় কমেছে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটকবাহী নৌযান ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সেতুটির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে যায় ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন। এক মাস পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। পর্যটকদের প্রবেশ ঠেকাতে সেতুর মুখে বাঁশ দিয়ে রাখা হয়েছে। সেতুর অপর পাশে যেতে জনপ্রতি ২০ টাকা দিয়ে নৌযানে যাতায়াত করছেন কেউ কেউ। তবে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ও ঘোরার অভিজ্ঞতা না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

পানির উচ্চতা বাড়লেই ভোগান্তি

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটি জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে সেতুটি ডুবে যায়। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে এবারও সেতুর পাটাতন দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে চলে গেছে। এ বছর দুই দফায় সেতুটি পানিতে ডুবেছে।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মো. তোফাজ্জল বলেন, সেতুতে পানি থাকার বিষয়টি আগে প্রচার করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, “এখানে আমরা এসেছি ঝুলন্ত সেতু দেখব, তার ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলব, কিন্তু কিছুই হলো না। এভাবে বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

খুলনা থেকে আসা লোকমান হোসেনের অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা জেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ প্রতিবছর কয়েক মাস পানিতে ডুবে থাকে। এর প্রভাব পড়ছে পর্যটন ব্যবসায়। পর্যটক কমে যাওয়ায় নৌযানচালক, হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী এবং পাহাড়ি পণ্যের বিক্রেতাদের আয় কমেছে।

পর্যটন নৌঘাটের টোল আদায়কারী মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পর্যটক কম আসায় নৌযানচালকেরা অলস বসে থাকছেন। তাঁদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল উদ্দিন বলেন, এখন সারা বছরই রাঙামাটিতে পর্যটক আসেন। কিন্তু ঝুলন্ত সেতু ডুবে থাকায় ভ্রমণকারীরা হতাশ হচ্ছেন। পর্যটনশিল্পের স্বার্থে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান জরুরি।

সেতু উঁচু করার প্রকল্প

পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, সেতু ডুবে থাকায় সেখানে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিন টিকিট বিক্রি থেকে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় কমছে। পাশাপাশি আশপাশের পর্যটন ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, সেতুটি আরও উঁচু করার জন্য একটি প্রকল্প উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সবুজ পাতায় যুক্ত হয়েছে। দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

সেতুটির উচ্চতা বাড়ানোর প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর পানিতে ডুবে যাওয়ার সমস্যা কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়নের ওপর। আপাতত পর্যটকদের ভোগান্তি কমাতে সেতুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আগাম তথ্য প্রচারও জরুরি।