চীনের জাতীয় দিবস ঘিরে শুরু হয়েছে দেশটির বছরের অন্যতম ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম। ১ থেকে ৭ অক্টোবর টানা সরকারি ছুটির সঙ্গে মধ্য-শরৎ উৎসবের ছুটি মিলিয়ে অনেক চীনা নাগরিক ১৩ দিনের দীর্ঘ অবকাশ কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন। এতে অভ্যন্তরীণ পর্যটন ও যাতায়াতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাপ।
বৃহস্পতিবার ভোরের আগেই বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে জড়ো হন এক লাখের বেশি মানুষ। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্কয়ারটি ১৮ মিটার উঁচু বিশাল পুষ্পস্তবক দিয়ে সাজানো হয়েছে।
একই সময়ে হংকংয়ের গোল্ডেন বাউহিনিয়া স্কয়ার এবং ম্যাকাওয়েও জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বর্ণাঢ্য বিমান মহড়া ও সামরিক নৌযানের প্রদর্শনী ছিল।
জাতীয় দিবসের ছুটিকে কেন্দ্র করে চীনের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ চাহিদা এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। চীনা পরিবহন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ছুটির দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ যাতায়াত করবেন। শুধু ১ অক্টোবর দেশজুড়ে অন্তত ৩৪ কোটি মানুষ ভ্রমণ করেছেন, যা স্বাভাবিক ছুটির দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বিপুল যাত্রী সামলাতে অতিরিক্ত ট্রেন ও ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। চায়না রেলওয়ে বেইজিং গ্রুপের হিসাবে, এই ছুটির মৌসুমে শুধু বেইজিং থেকেই প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করবেন।
পর্যটন ও ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। ছুটির মৌসুমে অভ্যন্তরীণ পর্যটন ও কেনাকাটা উৎসাহিত করতে প্রায় ৪ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলারের ভর্তুকি ও ভাউচার ঘোষণা করা হয়েছে।
চীনের জাতীয় দিবসের ছুটি সাধারণত দেশটির পর্যটন, পরিবহন, আতিথেয়তা ও খুচরা ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। ফলে বিপুল মানুষের এই ভ্রমণ চাহিদা দেশটির অভ্যন্তরীণ পর্যটন অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে।