আন্তর্জাতিক পর্যটন মহামারি-পরবর্তী সময়ের ধাক্কা কাটিয়ে এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ড ১৫০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এই পরিস্থিতিতে কোন দেশ পর্যটন বিকাশের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ, অবকাঠামো, যোগাযোগ ও পর্যটনসম্পদ তৈরি করতে পেরেছে, তার একটি চিত্র দিয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ২০২৬ সালের ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচক। 

সূচকটিতে ১১০টি অর্থনীতিকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পর্যটনবান্ধব পরিবেশ, ভ্রমণ ও পর্যটনসম্পদ, অবকাঠামো, বিমান যোগাযোগ এবং টেকসই পর্যটনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১১০টির মধ্যে ১০১টি অর্থনীতির অবস্থানের উন্নতি হয়েছে।

১. জাপান

দুই ধাপ এগিয়ে ২০২৬ সালের সূচকে শীর্ষে উঠেছে জাপান। আধুনিক নগরজীবন, প্রাচীন ঐতিহ্য, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয় দেশটির পর্যটনের বড় শক্তি। ২০২৫ সালে জাপানে রেকর্ড ৪ কোটি ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ আন্তর্জাতিক পর্যটক গেছেন। 

টোকিও, ওসাকা, কিয়োটো ও মাউন্ট ফুজি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের পরিচিত গন্তব্য।

২. যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় শহরের পাশাপাশি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ও ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের মতো প্রাকৃতিক আকর্ষণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। শহর, জাতীয় উদ্যান, ইতিহাস ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য দেশটির পর্যটনকে সমৃদ্ধ করেছে।

৩. স্পেন

বার্সেলোনা ও মাদ্রিদ, ঐতিহাসিক স্থাপনা, স্থাপত্য, সমুদ্রসৈকত এবং ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল স্পেনের পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি প্রাণবন্ত নগরজীবনও দেশটির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।

৪. অস্ট্রেলিয়া

দুই ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। সমুদ্রসৈকত, বন্যপ্রাণী ও বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি আধুনিক শহর দেশটির পর্যটনে বৈচিত্র্য এনেছে।

৫. ফ্রান্স

প্যারিস, আইফেল টাওয়ার ও লুভর জাদুঘর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে ফ্রান্সের পরিচিত আকর্ষণ। শিল্প, সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও ইতিহাস দেশটির পর্যটনশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

৬. জার্মানি

বার্লিন ও মিউনিখের নগর পর্যটনের পাশাপাশি ইতিহাস, স্থাপত্য ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য জার্মানিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করেছে।

৭. যুক্তরাজ্য

লন্ডনের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডও পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য। রাজকীয় ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেশটির পর্যটনের বড় সম্পদ।

৮. চীন

শীর্ষ দশে থাকা একমাত্র উচ্চ-আয়ের দেশ নয় চীন। গ্রেট ওয়াল, বেইজিংয়ের ফরবিডেন সিটি, সাংহাইয়ের আধুনিক নগরদৃশ্য এবং দীর্ঘ ইতিহাস ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি দেশটির পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ।

৯. সুইজারল্যান্ড

আল্পস পর্বতমালা সুইজারল্যান্ডের পর্যটনের অন্যতম পরিচিত প্রতীক। শীতকালীন ক্রীড়া, বরফঢাকা পাহাড়, প্রাকৃতিক দৃশ্য ও পাহাড়ি ভ্রমণের সুযোগ দেশটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করেছে।

১০. ইতালি

রোমের ঐতিহাসিক স্থাপনা, ভেনিসের খাল, ফ্লোরেন্সের শিল্প ও ঐতিহ্য এবং আমালফি উপকূল ইতালির পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। ইতিহাস, শিল্প, স্থাপত্য ও উপকূলীয় সৌন্দর্যের বৈচিত্র্য দেশটির বড় শক্তি।

শুধু দর্শনীয় স্থান নয়

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সূচক দেখাচ্ছে, পর্যটনে সাফল্যের জন্য শুধু প্রাকৃতিক বা ঐতিহাসিক আকর্ষণ যথেষ্ট নয়। উন্নত অবকাঠামো, বিমান যোগাযোগ, পর্যটনসেবা, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের সূচকে ১৪টি প্রধান সূচক বা স্তম্ভের মধ্যে ২০২৪ সালের তুলনায় ১৪টিতেই উন্নতি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, জাপান জাতীয় পর্যটন সংস্থা।