অক্টোবর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় সময়। বর্ষার পর প্রকৃতি সতেজ হয়ে ওঠে, অনেক এলাকায় আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে এবং পাহাড়, উপত্যকা, সমুদ্র, রাজপ্রাসাদ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যও এ সময় ভারতের পরিচিত গন্তব্যের বাইরে কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
শরতের আবহাওয়া ও স্থানীয় উৎসবের সঙ্গে মিলিয়ে অক্টোবরের ভ্রমণ তালিকায় রাখা যেতে পারে জম্মু ও কাশ্মীর, উদয়পুর, মহীশূর, কেরালা, আন্দামান ও নিকোবর, জিরো, হামপি ও মান্ডুকে।
জম্মু ও কাশ্মীর
অক্টোবরে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রকৃতিতে শরতের রঙ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সোনালি ও অ্যাম্বার রঙের পাতার সঙ্গে পাহাড়ি দৃশ্য এ সময় আলাদা সৌন্দর্য তৈরি করে। শ্রীনগরের বাগান, ডাল লেকে শিকারা ভ্রমণ এবং আশপাশের উপত্যকা ঘুরে দেখা যেতে পারে।
উদয়পুর, রাজস্থান
হ্রদ ও রাজপ্রাসাদের শহর উদয়পুরে অক্টোবরের তুলনামূলক আরামদায়ক আবহাওয়ায় ঘোরাঘুরি স্বস্তিদায়ক। পিচোলা লেকে নৌভ্রমণ, রাজপ্রাসাদ ও পুরোনো শহরের স্থাপত্য দেখার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়।
মহীশূর, কর্ণাটক
অক্টোবরের মহীশূরের অন্যতম আকর্ষণ মহীশূর দশেরা। ২০২৬ সালে উৎসবটি ১১ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এ সময় শহরজুড়ে থাকে আলোকসজ্জা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। মহীশূর প্রাসাদ, বাজার ও বাগান ঘুরে দেখারও সুযোগ রয়েছে।
কেরালা
বর্ষার পর কেরালার ব্যাকওয়াটার, সবুজ প্রকৃতি ও চা-বাগান নতুন রূপ পায়। আলাপ্পুঝা, কুমারাকোম ও মুন্নারে হাউসবোট ভ্রমণ, নৌভ্রমণ ও পাহাড়ি প্রকৃতি উপভোগ করা যায়।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
অক্টোবর থেকে দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণের পরিবেশ ধীরে ধীরে অনুকূল হয়। সমুদ্রসৈকত, দ্বীপভ্রমণ ও স্নরকেলিংয়ের মতো কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।
জিরো, অরুণাচল প্রদেশ
সবুজ পাহাড়, ধানক্ষেত ও স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতির জন্য জিরো অপেক্ষাকৃত ভিন্নধর্মী গন্তব্য। অক্টোবরের আরামদায়ক আবহাওয়ায় গ্রাম ও উপত্যকা ঘুরে দেখার সুযোগ থাকে।
হামপি, কর্ণাটক
প্রাচীন মন্দির, ধ্বংসাবশেষ ও পাথুরে ভূদৃশ্যের জন্য হামপি ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে হামপির তাপমাত্রা সাধারণত ২২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।
মান্ডু, মধ্যপ্রদেশ
প্রাচীন প্রাসাদ, প্যাভিলিয়ন ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় সমৃদ্ধ মান্ডু বর্ষার পর সবুজে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে ইতিহাস ও স্থাপত্য দেখতে চাইলে এটি ভ্রমণ তালিকায় রাখা যেতে পারে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য
ভারত ভ্রমণের আগে ভিসার ধরন ও সর্বশেষ প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করা জরুরি। ভারত সরকারের ই-ভিসা ব্যবস্থায় বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা যোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছেন। তবে ভ্রমণের আগে সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমান নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনপ্রক্রিয়া দেখে নেওয়া উচিত।