প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় খাবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাপানি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানানো হয়েছে। টোকিওতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পর্যটনবিষয়ক এক সেমিনারে দেশের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ওয়ার্ল্ড এয়ার সি সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত ব্যক্তি ও ভ্রমণকারীদের প্রায় ৮০ জন অংশ নেন।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। প্রচলিত খাতের পাশাপাশি পর্যটনের মতো উদীয়মান খাতেও বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাপানি ভ্রমণপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে পারে।

সেমিনারে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে সুন্দরবন, কক্সবাজার, টাঙ্গুয়ার হাওর, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও বাগেরহাটের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি হস্তশিল্প, বাউল সংগীতসহ লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং বাংলাদেশের খাবারের ঐতিহ্যও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দ্রুত ভিসা দেওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত ব্যক্তি ও ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেয় বাংলাদেশ দূতাবাস।

ওয়ার্ল্ড এয়ার সি সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োসুকে কিকুমা বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পর্যটন খাতে আরও এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।