মিশর ভ্রমণের খরচ ২০২৭ সাল থেকে কিছুটা বাড়তে পারে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে দেশটির একবার প্রবেশের ভিসার মূল ফি ৩০ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ৩৩ ডলার হবে। পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো ১৭৩/২০২৬ নম্বর পরিপত্রে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে।
তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে আলাদা। মিশরের সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের বর্তমান যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। অন্যদিকে, ঢাকায় মিশরীয় দূতাবাস ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একবার প্রবেশের ভিসা ফি ৯ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের কথা জানিয়েছে। তাই ৩৩ ডলারের নতুন ফিকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট ভিসা ফি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
২০২৭ সালে বাড়ছে সাধারণ ভিসা ফি
মিশরের মন্ত্রিসভার ১৩ আগস্ট ২০২৬ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবেশ ও যাত্রাবিরতির ভিসা ফি ৩ ডলার বাড়ানো হয়েছে। ফলে একবার প্রবেশের সাধারণ ভিসার মূল ফি ২০২৭ সাল থেকে ৩৩ ডলার হবে। এর সঙ্গে আবেদন বা ব্যবস্থাপনার ধরন অনুযায়ী সেবা, ভিসা প্রদান, ব্যাংকিং ও কর বাবদ অতিরিক্ত ৬ ডলার পর্যন্ত যুক্ত হতে পারে।
কায়রো বিমানবন্দরে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা
কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল আগমনী ভিসা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে প্রচলিত কাগজের ভিসা স্টিকারের পরিবর্তে কিউআর সংকেত ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় সেবাকেন্দ্র অথবা নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়।
বর্তমানে এই ব্যবস্থায় ভিসা ও সেবা মিলিয়ে মোট খরচ ৩৬ ডলার। ২০২৭ সালের নতুন মূল ফি কার্যকর হলে কায়রোর এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় মোট খরচ ৩৯ ডলার হতে পারে। তবে বাংলাদেশি নাগরিক এই ব্যবস্থার আওতায় সরাসরি ভিসা পেতে পারবেন কি না, ভ্রমণের আগে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করা জরুরি।
ই-ভিসা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মিশরের সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে বর্তমানে পর্যটনের একবার প্রবেশের ফি ৩০ ডলার এবং একাধিকবার প্রবেশের ফি ৬৫ ডলার দেখানো হচ্ছে। আবেদন সাধারণত ভ্রমণের অন্তত সাত দিন আগে করতে হয়।
তবে এই ই-ভিসা সুবিধা সব দেশের নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে ভিসার ধরন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ফি আগে নিশ্চিত করে তারপর বিমান টিকিট ও ভ্রমণ পরিকল্পনা করা উচিত।
মিশরের পিরামিড, প্রাচীন প্রত্নস্থল, জাদুঘর, নীলনদ ও লোহিত সাগরের পর্যটনকেন্দ্রগুলো দেশটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে রেখেছে। তাই ভিসার পাশাপাশি বিমানভাড়া, আবাসন, স্থানীয় যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থানগুলোর খরচও বাজেটে রাখা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: মিশরের সরকারি ই-ভিসা পোর্টাল, মিশরের সরকারি তথ্যসেবা এবং পর্যটন খাতের পরিপত্র।