তিন মাসের পর্যটন বিরতির পর ১ সেপ্টেম্বর আবার খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। এর পর থেকেই বনটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর আনাগোনা বাড়ছে। বিশ্ব পর্যটন দিবসকে সামনে রেখে খুলনা অঞ্চলে এখন নতুন করে পর্যটনবাহী নৌযান প্রস্তুত করা হচ্ছে, ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন ট্যুর অপারেটররাও।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে সাধারণত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটনের প্রধান মৌসুম। এ সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূল থাকে এবং নদী ও খাল শান্ত থাকায় নৌভ্রমণও স্বস্তিদায়ক হয়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় এক লাখ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে পর্যটনবাহী নৌযানে করে বনে প্রবেশ করেছেন প্রায় ৪০ হাজার জন। তবে ট্যুর অপারেটরদের মতে, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা মন্দাভাব দেখা গেছে।

পরিবারের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণ করা ৯ বছর বয়সী সুমাইয়া তাবাসসুম বলেন, তিনি বাঘ দেখার জন্য বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। তবে বাঘ দেখতে না পেলেও হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখে তার ভ্রমণ উপভোগ্য হয়েছে।

পর্যটক সাহিদা আক্তার লতা বলেন, সুন্দরবনের সবুজ পরিবেশ, নদী, জীববৈচিত্র্য ও নিরিবিলি পরিবেশ তাকে আকৃষ্ট করেছে। আরেক পর্যটক রুবেল বলেন, শিশুদের জন্য সুন্দরবন ভ্রমণ আনন্দের পাশাপাশি শিক্ষণীয়ও।

দ্য ইন্টারভাল ট্যুরসের পরিচালক সৈয়দ আতিক শাহরিয়ার তাকিম বলেন, সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। এ বছরও পর্যটক বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।

তবে খুলনার ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি পর্যটন কমে যাওয়ার পেছনে সুন্দরবনের আশপাশে অননুমোদিত রিসোর্ট গড়ে ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, কিছু রিসোর্ট এমন বিনোদনের সুযোগের প্রচার করে, যা বনের ভেতরে পাওয়া যায় না। ফলে অনেকে বনে না গিয়ে রিসোর্টেই সময় কাটান।

সুন্দরবনকে টেকসই পর্যটনের আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৫ থেকে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং পর্যটন উন্নয়নকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় ২০০ জনের বেশি ইকো-গাইডকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

খুলনা ও সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে খুলনা টোয়াসের উদ্যোগে রোববার সকালে রোড শোর আয়োজন করা হয়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠায় যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, গবেষণা, আন্তর্জাতিক প্রচার এবং পরিবেশবান্ধব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।