পায়ের নিচে স্বচ্ছ কাচ, এক পাশে পাহাড় আর অন্য পাশে গভীর খাদ বা সমুদ্র। উচ্চতার ভয়কে সঙ্গী করে এমন ভিন্নধর্মী ভ্রমণের সুযোগ এখন ভারতের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে। কন্যাকুমারীর সমুদ্রের ওপর কাচের সেতু থেকে সিকিমের পাহাড়ি আকাশপথ, কেরালার সবুজ উপত্যকা থেকে বিহারের রাজগীর, রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণকারীদের জন্য এসব গন্তব্যে মিলছে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

কন্যাকুমারী: সমুদ্রের ওপর কাচের সেতু

তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীতে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর চালু হয় ভারতের প্রথম সমুদ্রের ওপর নির্মিত কাচের সেতু। ৭৭ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত সেতুটি বিবেকানন্দ রক স্মৃতিসৌধ ও তিরুভাল্লুভার মূর্তিকে যুক্ত করেছে। স্বচ্ছ মেঝের নিচে দেখা যায় সমুদ্রের ঢেউ।

বিশাখাপত্তনম: পাহাড়ের কিনারায়

অন্ধ্রপ্রদেশের কৈলাসগিরিতে ৫৫ মিটার দীর্ঘ কাচের আকাশপথটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পর্যটকদের জন্য চালু হয়। বঙ্গোপসাগর, পূর্বঘাট ও শহরের দৃশ্য দেখা যায় এখান থেকে। নিরাপত্তার কারণে একসঙ্গে ৪০ জন প্রবেশ করতে পারেন।

পেলিং: কাচের ওপর কাঞ্চনজঙ্ঘা

সিকিমের পেলিংয়ে ২০১৮ সালে চালু হওয়া কাচের আকাশপথটি চেনরেজিগ মূর্তির কাছে অবস্থিত। প্রায় ৭ হাজার ২০০ ফুট উচ্চতার এই স্থান থেকে পরিষ্কার আবহাওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা, পাহাড়ি উপত্যকা ও বনভূমির দৃশ্য দেখা যায়।

রাজগীর: সবুজ পাহাড়ের ওপর

বিহারের রাজগীর নেচার সাফারিতে রয়েছে কাচ ও ইস্পাতের তৈরি আকাশপথ। এটি উপত্যকা থেকে প্রায় ২৫০ ফুট উঁচু এবং একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন হাঁটতে পারেন। নেচার সাফারির পাশাপাশি কাচের সেতুর জন্যও আলাদা ব্যবস্থাপনা রয়েছে।

ভাগামন: পশ্চিমঘাটের মেঘমাখা দৃশ্য

কেরালার ভাগামনের প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ ক্যান্টিলিভার কাচের সেতুটি পাহাড়ের ঢালে নির্মিত। প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতা থেকে পশ্চিমঘাটের পাহাড় ও উপত্যকার দৃশ্য দেখা যায়।

৯০০ কন্ডি: জঙ্গলের মধ্যে আকাশপথ

কেরালার ওয়েনাড়ের মেপ্পাদির কাছে ৯০০ কন্ডি সবুজ বন ও পাহাড়ে ঘেরা একটি পর্যটনকেন্দ্র। এখানে কাচের সেতুর পাশাপাশি জিপ ভ্রমণ, হাঁটা ও অন্যান্য দুঃসাহসিক কার্যক্রমের সুযোগ রয়েছে।

কুর্গ: কফিবাগানের মাঝে কাচের পথ

কর্নাটকের মাদিকেরীর কাছে প্রায় ৩২ মিটার দীর্ঘ কাচের সেতুটি সবুজ পাহাড় ও কফিবাগানের দৃশ্য দেখার সুযোগ দেয়। মাটির প্রায় ৭৮ ফুট ওপরে থাকা সেতুটি একসঙ্গে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ধারণ করতে পারে।

যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

কাচের সেতুতে যাওয়ার আগে প্রবেশমূল্য, সময়সূচি ও আবহাওয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া ভালো। বৃষ্টি, ঝড় বা অন্য কারণে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে। সেতুতে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি মানুষ ওঠা, দৌড়ানো কিংবা রেলিংয়ের বাইরে ঝুঁকে ছবি তোলা এড়িয়ে চলুন।