ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি এবং বিপুলসংখ্যক বিদেশির নিখোঁজ হওয়ার মধ্যেও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের দেশটি ভ্রমণের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল এড়িয়ে নেপালের অনেক জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য এখনো নিরাপদ ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পর্যটনমন্ত্রী খড়গ রাজ পাওদেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমাদের পাহাড়ি পথ ও ট্রেকিং রুটগুলো এখনো আপনাদের অপেক্ষায়।’
তিনি বলেন, এই সময়ে নেপাল ভ্রমণ শুধু ছুটি কাটানোর বিষয় নয়, ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলা করা দেশটির জন্যও এটি বড় ধরনের সহায়তা। নিজের বার্তায় তিনি #নেপালকলিং হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন।
গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাম, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়েছে। হিমবাহ ধসের পর বরফ, কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত উপত্যকায় নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
তবে দুর্যোগের ভয়াবহ ছবি এবং প্রাণহানির খবর বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে নেপাল ভ্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। অথচ দেশের সব পর্যটন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এ কারণেই নিরাপদ গন্তব্যগুলোতে পর্যটকদের ভ্রমণ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ১ হাজার ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩৯টি দেশের প্রায় ৫৯০ জন বিদেশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩২৪ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পর্যটন নেপালের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই দুর্যোগের পর পর্যটকদের দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণবিমুখতা দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সরকার মূলত এই পরিস্থিতি এড়াতেই বিশ্বের পর্যটকদের কাছে বার্তা দিচ্ছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও নিরাপদ পর্যটন গন্তব্যকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তবে ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে পর্যটকদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা, গন্তব্যের সড়ক ও বিমান যোগাযোগ এবং ট্রেকিং রুটের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নেপালের পর্যটন বিভাগও বন্যায় নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করছে।