হিমালয়ের পাহাড়, তীর্থপথ ও রোমাঞ্চকর ভ্রমণ নেপালের পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু রাসুয়ায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল আবারও প্রশ্ন তুলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মধ্যে দেশটির পাহাড়ি পর্যটন কতটা নিরাপদ। দুর্যোগটি বিশেষভাবে আঘাত করেছে নেপাল হয়ে তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবরগামী গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও তীর্থযাত্রার পথে।

রাসুয়াগড়ি-তিমুরে এলাকায় আঘাত হানা এই দুর্যোগে যোগাযোগ ও পর্যটন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিব্বতগামী ৬৪৪ জন কৈলাস মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি এবং সবচেয়ে বড় দলটি ছিল ভারতীয়, ১৭৮ জন।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্যমতে, এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে নেপালের রুটটির গুরুত্ব স্পষ্ট করে। ট্যুর অপারেটরদের ভাষ্য, এ বছর কৈলাস মানস সরোবরযাত্রার চাহিদা ছিল ৪০ হাজারের বেশি। তবে নেপাল হয়ে ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৪ হাজারে সীমিত ছিল।

কৈলাস মানস সরোবরযাত্রা নেপালের পর্যটন ব্যবসার অন্যতম লাভজনক ক্ষেত্র। ১০ দিনের রাসুয়াগড়ি-কেরুং প্যাকেজে পর্যটকপ্রতি খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার। এই মৌসুমে হোটেল, বিমান সংস্থা, রেস্তোরাঁ, গাইড ও কুলিদের আয় বাড়ে এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পায়।

তবে নেপালের পাহাড়ি পর্যটনের সামনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন জলবায়ু ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা দেশটির ৪২টি হিমবাহ হ্রদকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দ্রুত বরফ গলা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এসব হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে জনবসতির পাশাপাশি সড়ক, সেতু ও পর্যটন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবেশবিশেষজ্ঞ বিজয় কুমার সিং বলেন, ‘আমাদের পর্যটন খাত মূলত পাহাড়ের ওপর নির্ভরশীল। পাহাড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো সঠিকভাবে নিরূপণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দুর্যোগ এড়ানো যায়।’

সাবেক পরিবেশমন্ত্রী গণেশ শাহের মতে, পাহাড়ি পর্যটনকে নিরাপদ রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতায় বিনিয়োগ জরুরি।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক রাজ যোশী বলেন, দুর্যোগের প্রভাব পর্যটন খাতে অন্তত ছয় থেকে সাত মাস থাকতে পারে। তাঁর মতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাইরে নেপালের অন্যান্য পর্যটন গন্তব্য নিরাপদ, এই বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ পর্যটন পুনরুদ্ধার উদ্যোগ প্রয়োজন।