সিলেট ও ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য সাদাপাথর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটন কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র প্রতি বছর দেশজুড়ে হাজারো ভ্রমণপিপাসুর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে চলমান পাহাড়ি ঢল ও তীব্র স্রোতের কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে সাদাপাথর পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। স্রোতের তীব্রতাও অনেক বেশি। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদর ও তাহিরপুরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক জানান, সকালে পানির স্রোত কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢল কমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৭৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে নদীটির পানি বিপৎসীমার প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী দুই দিনে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রমেরও আশঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কারণে সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং দু-এক দিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড আগামী তিন দিন নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে।