প্রতি ঈদেই পর্যটকের ঢলে মুখর থাকে পাহাড়ঘেরা খাগড়াছড়ি। তবে এবার ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতেও সেই চেনা ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে না। জনপ্রিয় এই পার্বত্য জেলায় পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকটা নিরব সময় পার করছে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। যদিও ঈদের দিন থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে দর্শনার্থীর আনাগোনা।
বৃহস্পতিবার ঈদের দিন খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে স্থানীয় দর্শনার্থী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা কিছু পর্যটকের উপস্থিতি দেখা যায়। পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা, ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে যেকোনো সরকারি ছুটি কিংবা ঈদে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকত। কিন্তু এবার সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি থাকলেও শুরুতে তেমন সাড়া মেলেনি। ঈদের দিন থেকেই মূলত কিছুটা প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে পর্যটন এলাকাগুলোতে।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ঘুরতে আসা সুজিত সাহা ও দীলিপ দাশ, আর নোয়াখালী থেকে আসা মো. রুবেল হোসেন ও রবিউল ইসলাম জানান, দেশের ভেতর এত সুন্দর ও বৈচিত্র্যময় পর্যটন অঞ্চল রয়েছে, তা অনেকেই এখনো জানেন না।
তাদের মতে, খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য একটি স্থান। এখান থেকে পুরো খাগড়াছড়ি শহর এবং আঁকাবাঁকা চেঙ্গী নদীর মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। চারপাশের সবুজ পাহাড় আর নির্মল বাতাস নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করে দেয়।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পর্যটকদের টানছে আলুটিলার রহস্যময় প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ। পাহাড় ভেদ করে একদিক দিয়ে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বের হওয়ার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে ভিন্নমাত্রার রোমাঞ্চ তৈরি করছে।
প্রথমবার আলুটিলা সুড়ঙ্গে গিয়ে মুগ্ধতার কথা জানান অনেক দর্শনার্থী। তাদের ভাষ্য, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতটা আকর্ষণীয় হতে পারে, তা আগে ধারণাই ছিল না।
অনেক পর্যটক সাজেক ভ্যালি ঘুরে খাগড়াছড়িতে এসেছেন। তাদের মতে, সাজেকের মতো খাগড়াছড়িও সমানভাবে উপভোগ্য। এখানকার পাহাড়, ঝর্ণা, লেক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ আলাদা সৌন্দর্য বহন করে।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে আলুটিলা ভ্রমণে আসেন মো. সাহাব উদ্দিন ও তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার। দুই সন্তানকে নিয়ে সুড়ঙ্গ ঘুরে এসে তারা জানান নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা।
সাহাব উদ্দিন বলেন, “খুব ভালো লেগেছে। ভয় লাগেনি, বরং অন্যরকম এক অনুভূতি হয়েছে। দেশের অন্য কোথাও এমন অভিজ্ঞতা পাওয়া কঠিন।”
তবে পর্যটকের কম উপস্থিতির প্রভাব পড়েছে হোটেল ও মোটেল ব্যবসায়। দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে ব্যবসায়ীরা ভালো বুকিং ও বাড়তি আয়ের আশা করলেও বাস্তবে মিলছে না প্রত্যাশিত সাড়া।
খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক ক্যাচিং মারমা এবং অরণ্য বিলাস হোটেলের সহকারী ব্যবস্থাপক রাজীব দে জানান, এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রিম বুকিং নেই। তাদের মতে, পর্যটকের মূল চাপ এখনো শুরু হয়নি।
এদিকে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ পরিদর্শক নয়ন বড়ুয়া জানান, প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল টিমও কাজ করছে। কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
খাগড়াছড়ির উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আলুটিলা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, ঝুলন্ত সেতু, নয়াভিরাম লেক, মায়াবিনী লেক, হাতিমাথা পাহাড়, দেবতা পুকুর, তৈদু ছড়া ঝর্ণা এবং পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব স্থান দেশি পর্যটকদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।