ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে বান্দরবানে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকদের সন্ধ্যার আগেই জেলা ও উপজেলা সদরে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন পর্যটন এলাকা ও নির্ধারিত পথের বাইরে ভ্রমণেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

সোমবার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকের চাপ বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সতর্কতামূলক এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো পর্যটককে অনির্ধারিত বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত রুটের বাইরে ভ্রমণও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে রুমা ও থানচির দুর্গম অঞ্চলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিক বান্দরবানে ভ্রমণ করতে পারবেন না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট গাইড, পরিবহনমালিক-শ্রমিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। কোনো সন্দেহজনক বিষয় চোখে পড়লে দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ঈদের সময় অনেক পর্যটক দুর্গম ও অনুমোদনহীন এলাকায় ঘুরতে যান। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। মূলত জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ঈদের পর নির্দেশনাগুলো প্রত্যাহার করা হতে পারে।

এদিকে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের জন্য সুখবরও দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ২৮ ও ২৯ মে জেলা প্রশাসন পরিচালিত নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক ও চিম্বুক পাহাড়চূড়ায় বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান স্বাক্ষরিত পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।