মালদ্বীপের পরিচিত বিলাসবহুল অবকাশের বাইরে এবার ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইন্দোনেশিয়ার বাওয়াহ দ্বীপ। রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের নির্জন এই অঞ্চলে গড়ে ওঠা বাওয়াহ রিজার্ভে বিলাসবহুল থাকার পাশাপাশি সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণ, প্রবালপ্রাচীর ঘুরে দেখা, স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং ও প্রকৃতিনির্ভর নানা অভিজ্ঞতার সুযোগ রয়েছে।
বাওয়াহ রিজার্ভের অন্যতম আকর্ষণ সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণ। রিসোর্টের তিনজন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দ্বীপ থেকে কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করেন। শিকারি প্রাণীর হাত থেকে ডিমগুলো রক্ষা করতে সেগুলো নিরাপদ, ঢাকনাযুক্ত স্থানে রাখা হয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পর সরু নিরাপদ পথ ধরে সেগুলো সাগরের দিকে যায়।
ডিম ফুটে কচ্ছপ বের হওয়ার খবর পেলে রিসোর্টের কর্মীরা অতিথিদের বার্তা পাঠান। ফলে রাতের খাবার কিংবা অন্য আয়োজন বাদ দিয়েও অনেক অতিথি সৈকতে ছুটে যান কচ্ছপের সাগরে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ রয়েছে। রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জ দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি দ্বীপমালা। বাওয়াহ রিজার্ভের মালিকানায় রয়েছে এই অঞ্চলের ছয়টি দ্বীপ। আশপাশের নির্জন দ্বীপগুলোতে দাগি ঘুঘু, ফলখেকো বাদুড় ও ব্ল্যাকটিপ রিফ হাঙরও দেখা যায়।
যেতে হয় সিঙ্গাপুর হয়ে
বাওয়াহে পৌঁছানোর যাত্রাটিও বেশ আলাদা। সাধারণত সিঙ্গাপুর থেকে যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকে ফেরিতে সিঙ্গাপুর প্রণালি পেরিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপে যেতে হয়। এরপর বাতামের হাং নাদিম বিমানবন্দর থেকে ব্যক্তিগত জলবিমানে বাওয়াহর উদ্দেশে রওনা হতে হয়।
একটি জলবিমানে সর্বোচ্চ ১০ জন যাত্রী যেতে পারেন। মালপত্রের সীমাও কঠোর। প্রত্যেক অতিথি সর্বোচ্চ ১৫ কেজি মালপত্র নিতে পারেন এবং বিমানে ওঠার আগে যাত্রী ও ব্যাগের সম্মিলিত ওজন পরীক্ষা করা হয়। বাতাম থেকে বাওয়াহ পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৭৫ মিনিট।
বিলাসিতার খরচও বেশ চড়া
বাওয়াহ রিজার্ভের সবচেয়ে সাধারণ কক্ষের ভাড়া শুরু ১ হাজার ৯৮০ ডলার থেকে। কমপক্ষে তিন রাত থাকতে হয়। এর মধ্যে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার ও একটি স্পা সেবা রয়েছে। সবচেয়ে ব্যয়বহুল চার শয়নকক্ষের স্যুটের ভাড়া ভরা মৌসুমে ১২ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত। চাইলে পুরো একটি দ্বীপও ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রিসোর্টের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা পল রবিনসন সিএনএনকে বলেন, বাওয়াহ এমন অতিথিদের জন্য তৈরি, যারা ‘মালদ্বীপে বিরক্ত’। তাঁর মতে, সক্রিয় জীবনযাপন পছন্দ করেন এমন বিলাসী ভ্রমণকারীদের জন্য এখানে আরও বেশি কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে।
স্নরকেলিং, খোলা সাগরে সাঁতার, স্কুবা ডাইভিং, যোগব্যায়াম ও ব্যায়ামের পাশাপাশি কফি সংগ্রহ এবং সুগন্ধি তৈরির কর্মশালাও রয়েছে। অতিথিদের পছন্দ ও খাবারে অ্যালার্জির তথ্য আগেই নিয়ে পুরো অবস্থানকে ব্যক্তিগতভাবে সাজানো হয়।
স্থানীয় উপাদান ও সামুদ্রিক খাবারনির্ভর খাবারের পাশাপাশি সপ্তাহে দুই রাত সমুদ্রসৈকতের রেস্তোরাঁকে ইন্দোনেশীয় খোলা বাজারের আদলে সাজানো হয়। ফলে বিলাসী অবকাশের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগও পান অতিথিরা।