বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি সবুজ ঘাসে ঢাকা চর, সারি সারি কেওড়া ও ঝাউগাছ, চারপাশে নদী ও সাগরের জলরাশি। জোয়ারে যেখানে পানির ছোঁয়া, ভাটায় সেখানেই জেগে ওঠে সবুজ প্রান্তর। বরগুনার তালতলী উপজেলার নিদ্রার চর এমনই এক উপকূলীয় গন্তব্য, যেখানে বাণিজ্যিক পর্যটনের চেয়ে প্রকৃতির স্বাভাবিক রূপই মূল আকর্ষণ।

স্থানীয়ভাবে ‘ডিসি পয়েন্ট’ নামেও পরিচিত নিদ্রার চর পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনার কাছাকাছি অবস্থিত। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই চরকে ঘিরে রয়েছে কেওড়া ও ঝাউবন। একদিকে সাগর, অন্যদিকে নদী আর মাঝখানে সবুজ চরাঞ্চল জায়গাটিকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।

জোয়ার-ভাটাই মূল আকর্ষণ

নিদ্রার চরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য জোয়ার-ভাটার সঙ্গে বদলে যাওয়া ভূদৃশ্য। ভাটার সময় সবুজ ঘাস ও শ্বাসমূলের সারি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবার জোয়ারে চরের নিচু অংশে পানি জমে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। তাই এখানে বেড়াতে গেলে নদীর জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে আগে ধারণা নেওয়া জরুরি।

খোলা আকাশ, নির্জন পরিবেশ, নদী ও সাগরের বাতাসের পাশাপাশি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। প্রকৃতির ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি বেশ উপযোগী।

এখনো সীমিত পর্যটন সুবিধা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে নিদ্রার চরে পর্যটকের আগ্রহ বাড়লেও সেখানে পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, শৌচাগার, খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থা নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি পর্যটকবান্ধব নয়। ফলে যাওয়ার আগে যাতায়াত, খাবার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে নেওয়া ভালো।

নিদ্রার চরের উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এখানকার ম্যানগ্রোভ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। ফলে পর্যটনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

কখন যাবেন

শুষ্ক ও তুলনামূলক অনুকূল আবহাওয়ায় নিদ্রার চর ঘোরা সুবিধাজনক। তবে বর্ষা, নিম্নচাপ বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নদী ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যাওয়ার আগে আবহাওয়া ও স্থানীয় নদীপথের পরিস্থিতি জেনে নেওয়া উচিত।

নিদ্রার চরের সৌন্দর্য মূলত এর স্বাভাবিক পরিবেশে। তাই এখানে গেলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, প্লাস্টিক ও বর্জ্য না ফেলা এবং কেওড়া বা অন্যান্য উপকূলীয় উদ্ভিদের ক্ষতি না করার বিষয়টি পর্যটকদের মনে রাখা প্রয়োজন।