রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি অরণ্যে লুকিয়ে থাকা রাইক্ষং ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমী ও অভিজ্ঞ ট্রেকারদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। দীর্ঘ পাহাড়ি পথ, ছড়া-ঝিরি, ঘন বন আর স্থানীয় জনপদ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় এই ঝরনায়। পথ যত কঠিন, রাইক্ষংয়ের সৌন্দর্য যেন ততটাই আকর্ষণীয়।

বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তে পার্বত্য অঞ্চলের প্রকৃতি ভিন্ন রূপে ধরা দেয়। সবুজ পাহাড়, স্বচ্ছ ঝিরির পানি ও মেঘে ঢাকা পাহাড়ি দৃশ্য এ সময় ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তোলে। এমনই এক অভিযানে ছয় সদস্যের দল নিয়ে বগা লেক থেকে রাইক্ষংয়ের পথে যাত্রা শুরু হয়।

ভোর সাতটায় হাঁটা শুরু করে দলটি পাহাড়ের চড়াই-উতরাই, ছড়া ও ঝিরি পেরিয়ে পৌঁছায় নাখজং পাড়ায়। সেখানে মুরং জনগোষ্ঠীর বসতি। এরপর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রুমা খাল এবং এনোংপাড়ায় পৌঁছে স্থানীয় পরিবেশে রাতযাপন করেন অভিযাত্রীরা।

পরদিন মূল গন্তব্যের উদ্দেশে আবার শুরু হয় ট্রেকিং। ঘন অরণ্য, লতাগুল্ম আর জোঁকের উপস্থিতি পথকে আরও কঠিন করে তোলে। পাহাড়ি পথের বিভিন্ন স্থানে দেখা মেলে স্বচ্ছ পানির ধারা ও বিস্তৃত সবুজ পাহাড়ের দৃশ্য।

পথে পুকুরপাড়ার কাছে পাহাড়ঘেরা একটি প্রাকৃতিক জলাধারও অভিযাত্রীদের চোখে পড়ে। স্থানীয় পাড়া পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় দুই দিনের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছানো যায় বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত রাইক্ষং ঝরনায়।

রাইক্ষংয়ের বিশেষত্ব এর বহমান জলধারা ও চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিশাল জলরাশি ধাপে ধাপে নিচে নেমে এসেছে। দুই পাশে সেগুন ও গর্জনগাছে ঘেরা উঁচু পাহাড়, মাঝখানে ঝরনার অবিরাম প্রবাহ। ঝরনার পানি দূরে গিয়ে রুমা খালে মিলিত হয়েছে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান যাওয়া যায়। সেখান থেকে রুমা বাজারের পথে যেতে হবে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। স্থানীয় গাইড নিয়ে ভ্রমণ করা নিরাপদ ও সুবিধাজনক।

থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি

রুমা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় খাবার ও শুকনা খাবার সংগ্রহ করে নেওয়া ভালো। স্থানীয় গাইডের পরামর্শ অনুযায়ী স্থানীয় গ্রামে থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

দুর্গম এই পথে চার থেকে ছয়জনের ছোট দল নিয়ে ভ্রমণ সুবিধাজনক। সঙ্গে স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মশা ও জোঁক প্রতিরোধক, টর্চ, শক্ত লাঠি এবং হালকা কাপড় রাখা উচিত। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রতি সম্মান দেখানোও দায়িত্বশীল পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ভ্রমণ পরামর্শ: যাত্রার আগে পথের অনুমতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আবহাওয়া এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নিয়ম জেনে নিন। অভিজ্ঞ গাইড ছাড়া দুর্গম পাহাড়ি পথে না যাওয়াই ভালো।