বর্ষার টানা বৃষ্টিতে নতুন রূপে ধরা দিয়েছে রাঙামাটির পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা জলধারা, সবুজ অরণ্য ও কাপ্তাই হ্রদের নৈসর্গিক পরিবেশ মিলিয়ে বর্ষার রাঙামাটি এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঙা হচ্ছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসাও।
সুবলংয়ের বড় ও ছোট ঝর্ণা, কাউখালীর ঘাগড়া ঝর্ণা এবং বিলাইছড়ির ধুপপানি, মুপ্পোছড়া, গাছকাটাছড়া ও শতপাপড়িসহ বিভিন্ন ঝর্ণায় এখন পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ছে।
কাপ্তাই হ্রদে নৌপথে তুলনামূলক সহজে পৌঁছানো যায় বলে সুবলং ঝর্ণা বরাবরই জনপ্রিয়। অন্যদিকে বিলাইছড়ির দুর্গম ঝর্ণাগুলোতে যেতে খাড়া পাহাড়ি পথ, ঝিরি ও পাথুরে পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে এসব গন্তব্য অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণ তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম থেকে ঘাগড়া ঝর্ণায় ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী আফিয়া খানম বলেন, বর্ষায় পানি বেশি থাকায় ঝর্ণাগুলোর সৌন্দর্য অন্যরকম হয়ে ওঠে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জাহিদ হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভ্রমণবিষয়ক গ্রুপে রাঙামাটির বর্ষার সৌন্দর্য দেখে তারা এসেছেন। ঝর্ণার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে।
পর্যটক বাড়ায় স্থানীয় নৌযান, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, গাইড ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। রাঙামাটি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বন কুমুস বড়ুয়া বাপ্পী জানান, বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, বর্ষায় আগত পর্যটকদের জন্য কটেজ, ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিশেষ আয়োজনও করা হচ্ছে।
তবে বর্ষার ঝর্ণা ভ্রমণে সতর্কতাও জরুরি। দুর্গম এলাকায় স্থানীয় অভিজ্ঞ গাইডের সহযোগিতা নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্যুরিস্ট পুলিশের রাঙামাটি জোনের উপপরিদর্শক উইলিয়াম ত্রিপুরা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে টহল জোরদার করা হয়েছে।