থাইল্যান্ডের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ডাবল-এন্ট্রি ই-ট্যুরিস্ট ভিসার ফি মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত।
এই সুবিধা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। খবর: দ্য নেশন।
ভারত সরকার জানিয়েছে যে থাই নাগরিকেরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৩০ দিনের ডাবল-এন্ট্রি ই-ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
ব্যাংককে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
এই ব্যবস্থার আওতায়, থাই পাসপোর্টধারীরা কোনো ভিসা ফি প্রদান ছাড়াই অনলাইনে আবেদন করে ভারতে সর্বোচ্চ দুইবার প্রবেশের সুবিধাসহ ৩০ দিনের ই-ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন।
তবে ভ্রমণকারীদের ভারত সরকারের অফিসিয়াল ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন জমা দিয়ে ভ্রমণের আগেই এই ই-ট্যুরিস্ট ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ, এটি মূলত ‘ভিসা ফি মওকুফ’ সুবিধা, সরাসরি ‘ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার’ নয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: “ভারত সরকার থাই নাগরিকদের বিনামূল্যে ৩০ দিনের ডাবল-এন্ট্রি ই-ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান করবে। এই ব্যবস্থা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই প্রকল্পের আওতায় আবেদনকারী থাই নাগরিকদের কাছ থেকে কোনো প্রকার ভিসা ফি নেওয়া হবে না।
২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থাই পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছেন থাইল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে দিন দিন দ্বিপাক্ষিক পর্যটন সম্পর্কের প্রসারের সোপান হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংককের ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থাই পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছেন, যা তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কম।
ভারতের সরকারের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বিদেশী পর্যটকদের শীর্ষ ১৫টি উৎস দেশের মধ্যে থাইল্যান্ড অন্যতম ছিল। ওই বছর ১৪০,৪৮৯ জন থাই নাগরিক ভারত সফর করেন, যা ছিল ভারতে আগত মোট বিদেশী পর্যটকের ১.৪১ শতাংশ। এটি ২০২৩ সালের ১১৬,০৬০ জনের চেয়ে বেশি ছিল।
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগও সম্প্রসারিত হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের সাথে ভারতের ১৫টিরও বেশি শহরের সরাসরি বিমান সংযোগ রয়েছে এবং ঋতুভিত্তিক সময়সূচী অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয়।
নতুন এই ফি মওকুফ সুবিধা থাই দর্শনার্থীদের জন্য ভারত ভ্রমণ আরও সহজ করবে এবং দুই দেশের পর্যটন ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।