সাহারার বিশাল বালিয়াড়ি, রোমান সাম্রাজ্যের সংরক্ষিত ধ্বংসাবশেষ, প্রাচীন নগর আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ আলজেরিয়া দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক পর্যটনে অনেকটাই আড়ালে ছিল। জটিল ভিসা ব্যবস্থা ও সীমিত পর্যটন অবকাঠামো এর অন্যতম কারণ। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। পর্যটক আকর্ষণে ভিসা সহজীকরণ, অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ পর্যটক টানার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি।
আলজিয়ার্স দিয়ে শুরু
বেশির ভাগ পর্যটকের যাত্রা শুরু হয় সমুদ্রতীরের রাজধানী আলজিয়ার্স থেকে। প্রাচীন ফিনিশীয় বসতি থেকে গড়ে ওঠা শহরটিতে পরবর্তী বিভিন্ন শাসনের প্রভাব স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতে স্পষ্ট। শহরের ঐতিহাসিক কাসবাহও ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে।
এরপর ভ্রমণপথে রাখা যায় কনস্টান্টিন। খাড়া গিরিখাত, সেতু ও পুরোনো নগরাঞ্চলের জন্য পরিচিত এই শহরটির ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের। তবে মূল প্রতিবেদনের দাবির সংশোধন জরুরি, কনস্টান্টিন শহর নিজে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল নয়।
রোমান সভ্যতার অনন্য নিদর্শন
কনস্টান্টিনের কাছাকাছি তিমগাদ ও জেমিলা আলজেরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক আকর্ষণ। তিমগাদ খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে সম্রাট ট্রাজানের সময়ে প্রতিষ্ঠিত রোমান নগর। সোজা রাস্তার পরিকল্পনা, মন্দির, ফোরাম ও নাট্যশালার ধ্বংসাবশেষ এখনো সেখানে দেখা যায়।
জেমিলাও রোমান নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে ওঠা এই নগর ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে।
ভিসা ও বিমান যোগাযোগে পরিবর্তন
আলজেরিয়া দক্ষিণাঞ্চলের মরুভূমি ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় সহজীকরণ এনেছে। ২০২৩ সালে চালু হওয়া আগমনের পর ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুমোদিত পর্যটন ব্যবস্থাপনার আওতায় দক্ষিণাঞ্চলে ভ্রমণ আরও সহজ হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই ব্যবস্থায় ১২০টি দেশের প্রায় ৩৯ হাজার পর্যটক সুবিধা পেয়েছেন।
অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগও বাড়ছে। এয়ার আলজেরির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডমেস্টিক এয়ারলাইনস ২০২৫ সালের আগস্টে কার্যক্রম শুরু করে। এর প্রথম আনুষ্ঠানিক ফ্লাইট ছিল আলজিয়ার্স থেকে তামানরাসেত।
সাহারার পথে দজানেত
শহর ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পেরিয়ে ভ্রমণের আরেক বড় আকর্ষণ সাহারা। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দজানেত থেকে তাসিলি নাজের অঞ্চলের মরুভূমি, বালিয়াড়ি, পাথুরে ভূদৃশ্য ও প্রাগৈতিহাসিক শিলাচিত্রের অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। তাসিলি নাজেরও ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত।
ঐতিহাসিক নগর, রোমান স্থাপত্য, মরুভূমি ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সমন্বয়ে আলজেরিয়া এখন আফ্রিকার তুলনামূলক কম পরিচিত কিন্তু সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নতুন করে নজর কাড়ছে।