হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত জাদুঘর। ঘন সবুজ বন, পুরোনো গাছ, পাখির ডাক আর গাছের মগডালে বিচরণ করা বিরল প্রাণী এই বনকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রকৃতিভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে। বিশেষ করে বিরল কালো দৈত্য কাঠবিড়ালি বা মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ছে।
চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত রেমা-কালেঙ্গা শুষ্ক ও চিরহরিৎ বনভূমির সমন্বয়ে গঠিত। ১৯৮২ সালে অভয়ারণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৬ সালে এটি সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে এর আয়তন ১ হাজার ৭৯৫ দশমিক ৫৪ হেক্টর।
অভয়ারণ্যটি রেমা, কালেঙ্গা, ছনবাড়ী ও রশিদপুর বিটে বিভক্ত। বনটি হবিগঞ্জের পাশাপাশি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকার কাছাকাছি এবং এর পূর্ব সীমানা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বলে বন ও পর্যটনসংক্রান্ত বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার
রেমা-কালেঙ্গায় রয়েছে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, সাত প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্ম। বিরল পাখির পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন প্রজাতির বানর, হনুমান, উল্লুক, মায়া হরিণ, মেছোবাঘ, বনশূকর, গন্ধগোকুল, বেজি ও সজারুর দেখা মেলে।
এ বনের অন্যতম আকর্ষণ কালো দৈত্য কাঠবিড়ালি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালি হিসেবে পরিচিত এই প্রাণীটি গাছের উঁচু ডালে বিচরণ করে। এর মাথা ও শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯ থেকে ৪২ সেন্টিমিটার এবং লেজ প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ওজন প্রায় দুই কেজি পর্যন্ত হয়।
হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দেব বলেন, বড় ও পুরোনো গাছ সংরক্ষণ ছাড়া জায়ান্ট স্কুইরেলের মতো প্রাণী টিকিয়ে রাখা কঠিন। গহিন বন ও প্রবীণ বৃক্ষ কমে গেলে এসব প্রাণী খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয় হারাবে।
কালেঙ্গা বিট কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, রেমা-কালেঙ্গায় বিরল কাঠবিড়ালির উপস্থিতি বনের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। পর্যটকদের নির্ধারিত পথে নীরবে চলাফেরা এবং বন্যপ্রাণীকে ভয় না দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়কপথে শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে চুনারুঘাটে যেতে হয়। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশা বা স্থানীয় যানবাহনে রেমা-কালেঙ্গায় পৌঁছানো যায়। শ্রীমঙ্গল থেকেও অভয়ারণ্যে যাওয়ার পথ রয়েছে। বর্ষায় বনমুখী কিছু সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে যেতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে স্থানীয় পরিবহন পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো।
ভ্রমণ সতর্কতা: বনে প্রবেশের সময় নির্ধারিত পথ ব্যবহার করতে হবে। উচ্চ শব্দ, বন্যপ্রাণীকে খাবার দেওয়া, প্রাণীর খুব কাছে যাওয়া এবং গাছপালা নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।