চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরে শতবর্ষের ইতিহাস, সবুজ প্রকৃতি ও জলাভূমিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ‘তালসারী ডিসি ইকো পার্ক’। একসময় অবহেলায় জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়া এই ঐতিহাসিক স্থানটি সরকারি উদ্যোগে নতুন রূপ পাওয়ার পর এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ। পরিকল্পিত সংরক্ষণ ও উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে পার্কটি জেলার পর্যটন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৯৫ সালে নদীয়া এস্টেটের জমিদার শ্রী নফর চন্দ্র পাল চৌধুরী শিবনগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আম, কাঁঠাল ও লিচুর বাগান গড়ে তোলেন। বাগানের প্রবেশপথের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে শত শত তালগাছ রোপণ করা হয়। সেই তালগাছের দীর্ঘ সারি থেকেই এলাকাটি ‘তালসারী’ নামে পরিচিতি পায়।

১৯৪০ সালে নফর চন্দ্র পাল চৌধুরীর মৃত্যুর পর ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় তার দুই ছেলে ভারতে চলে যান। পরে বাগানটির মালিকানা সরকারের হাতে আসে। দীর্ঘদিন যথাযথ পরিচর্যার অভাবে বাগানের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে এলাকাটি ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে ঐতিহাসিক সরকারি সম্পদটি সংরক্ষণে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেয়। জঙ্গল পরিষ্কার করে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়। তালগাছের সারি, আমবাগান, লিচু ও কাঁঠালবাগানের পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে জলাশয়কেন্দ্রিক বিনোদনের ব্যবস্থা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাগান ও জলাশয় মিলিয়ে ডিসি ইকো পার্কের আয়তন প্রায় ১২৮ একর। এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৭৬ একর জলাশয় সংস্কার করে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। লেকে সাম্পানসহ নৌভ্রমণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা শহর ও দামুড়হুদা থেকে সড়কপথে পার্কে যাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের পর্যটন তথ্যেও ডিসি ইকো পার্ক ও তালসারীকে জেলার দর্শনীয় স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শীত মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সারা বছরই এখানে ভ্রমণপ্রেমীদের আনাগোনা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ‘তালসারী ডিসি ইকো পার্ক’ চুয়াডাঙ্গার পর্যটন ও জেলা ব্র্যান্ডিংয়ে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।