দার্জিলিং মানেই শুধু ব্যস্ত মল রোড, ভিড় আর পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র নয়। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে পাহাড়ের কোলে রয়েছে এমন কিছু গ্রাম, যেখানে মেঘ, কুয়াশা, পাইনবন ও চা-বাগানের আবহে ছুটি কাটানো যায় অনেকটা নিরিবিলিতে। দার্জিলিং জেলার লিংসেবং, রঙ্গারুন ও তাকদা হতে পারে এমনই বিকল্প ঠিকানা।

লিংসেবং: মেঘ আর পাইনবনের মাঝে

দার্জিলিং শহরের ভিড় থেকে দূরে লিংসেবংয়ের অন্যতম আকর্ষণ ঘন পাইনবন, পাহাড়ি কুয়াশা ও শান্ত পরিবেশ। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্যও দেখা যায়।

প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি পাখি ও বন্যপ্রাণী দেখতে আগ্রহীদের জন্যও জায়গাটি আকর্ষণীয়। আশপাশের জঙ্গলে হাঁটার পথ রয়েছে। থাকার জন্য পাওয়া যায় একাধিক হোমস্টে।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে লিংসেবংয়ের দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে জোড়বাংলো হয়ে স্থানীয় গাড়িতে যাওয়া সুবিধাজনক।

রঙ্গারুন: চা-বাগানের সবুজে অবসর

পাহাড়ি প্রকৃতির পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে চাইলে রঙ্গারুন হতে পারে ভালো পছন্দ। পাহাড়ের ঢালে চা-বাগান, কাঠের বাড়ি, ফুলের গাছ ও চাষের জমি এখানকার পরিবেশকে আলাদা করে তুলেছে।

রঙ্গারুন দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং প্রায় ২ হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যায়। রঙ্গডাং নদীর দিকেও হাঁটার পথ রয়েছে।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে জোড়বাংলো হয়ে রঙ্গারুনের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। হোমস্টে ও স্থানীয় পরিবহন সুবিধা পাওয়া যায়।

তাকদা: চা-বাগান, পাইন আর কুয়াশার পথ

প্রকৃতির মধ্যে নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে তাকদা রাখা যায় ভ্রমণ তালিকায়। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, চা-বাগান, পাইন ও সিডার গাছ এবং কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ এখানকার প্রধান আকর্ষণ।

তাকদা একসময় ব্রিটিশ সেনানিবাস ছিল। এখনও সেখানে ঔপনিবেশিক আমলের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী বাংলো রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দেচেন পেমা ছোয়েলিং মঠ, চা-বাগান ও প্রকৃতির পথে হাঁটার সুযোগ। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, তাকদা দার্জিলিং থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৭২ কিলোমিটার দূরে।

যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

বর্ষাকালে দার্জিলিং পাহাড়ে ভূমিধস ও রাস্তার সমস্যার কারণে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই যাত্রার আগে আবহাওয়া, রাস্তার অবস্থা, স্থানীয় গাড়ি ও থাকার জায়গা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া ভালো।