সুইজারল্যান্ড মানেই তুষারঢাকা পাহাড়, স্বচ্ছ হ্রদ, সবুজ উপত্যকা আর মনোরম পাহাড়ি শহর। তবে ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল এই গন্তব্যে দীর্ঘ সময় ভ্রমণের খরচ নিয়ে অনেক পর্যটকেরই দুশ্চিন্তা থাকে। সঠিক পরিকল্পনা করলে সেই খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এমনই একটি উদাহরণ দিয়েছেন ভারতীয় পর্যটক অঙ্কিতা।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নিজের ১৫ দিনের সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জনপ্রতি পুরো সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ভারতীয় রুপি, যা আনুমানিক ২ লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি টাকার সমান।
অঙ্কিতার ভ্রমণে ছিল পাহাড়ি এলাকা ঘোরাঘুরি, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, ট্রেনযাত্রা, কেবল কারে চড়া এবং স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতা। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতেও সফরের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
কোথায় কত খরচ
অঙ্কিতার হিসাব অনুযায়ী, মুম্বাই থেকে যাওয়া-আসার বিমানের টিকিটে খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার ভারতীয় রুপি। সুইস ট্রাভেল পাসের জন্য ১৮ হাজার এবং গাড়ি ভাড়ায় ১৮ হাজার রুপি খরচ হয়েছে।
১৫ দিনের থাকার জন্য ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার রুপি। খাবারে প্রায় ৭ হাজার, বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রম ও কেবল কারে ১৫ হাজার এবং কেনাকাটা, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে আরও ১০ হাজার রুপি খরচ হয়েছে।
সব মিলিয়ে তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ভারতীয় রুপি।
তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এই বাজেট সরাসরি প্রযোজ্য নয়। কারণ অঙ্কিতার যাত্রা শুরু হয়েছে মুম্বাই থেকে। ঢাকা থেকে বিমানভাড়া, সুইজারল্যান্ডের শেনজেন ভিসা, ভ্রমণবীমা, মুদ্রা বিনিময় ও অন্যান্য খরচ আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের জন্য শেনজেন ভিসা প্রয়োজন। ঢাকায় সুইজারল্যান্ডের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন ও সাক্ষাতের সময় আগে থেকে নির্ধারণ করতে হয়। দূতাবাস ভ্রমণের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগেভাগে আবেদন করার পরামর্শও দিয়েছে।
অঙ্কিতার অভিজ্ঞতা থেকে তাই মূল শিক্ষা হলো, সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে সাশ্রয় করতে হলে আগে থেকেই বিমান, থাকার জায়গা, স্থানীয় যাতায়াত ও পর্যটন কার্যক্রমের বাজেট ঠিক করা জরুরি। তাঁর ২ লাখ রুপির হিসাবটি একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণ বাজেট, বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণের চূড়ান্ত খরচ নয়।