চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়, সমুদ্র, ঝরনা ও সবুজ প্রকৃতির টানে ছুটে আসেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। গুলিয়াখালী ও বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়, সহস্রধারা ও সুপ্তধারা ঝরনা, সব মিলিয়ে অল্প দূরত্বের মধ্যে বৈচিত্র্যময় পর্যটন গন্তব্যের সমাহার এই উপজেলায়। কিন্তু পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি নাগরিক সুবিধা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা।

ছুটির দিনে শুধু গুলিয়াখালী ও বাঁশবাড়িয়ায় ১৫ থেকে ২০ হাজার এবং চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার পর্যটকের সমাগম হয় বলে প্রশাসনের তথ্য। বিপুল এই পর্যটকসমাগলের বিপরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, পার্কিং ও নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা

গুলিয়াখালী ও বাঁশবাড়িয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটন এলাকাগুলোতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাহাড়ি ঝরনাগুলোতেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক স্থাপনা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, পরিকল্পিত পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা না গেলে আগামী কয়েক বছরে গুলিয়াখালীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গুলিয়াখালীকে ২০২২ সালে ২৫৯ দশমিক ১০ একর এলাকাজুড়ে পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়েও সেখানে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

পর্যটকদের ভোগান্তি

পর্যটকদের অভিযোগ, ছুটির দিনে পর্যাপ্ত শৌচাগার, বিশ্রামের জায়গা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা পাওয়া কঠিন। মহাসড়কের পাশে পরিকল্পিত পার্কিংয়ের অভাবে যানবাহনের বিশৃঙ্খল অবস্থানেও তৈরি হয় ভোগান্তি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক হাসান মাহমুদ বলেন, “সীতাকুণ্ডের পাহাড় ও সমুদ্রের প্রকৃতি সত্যিই দুর্দান্ত, কিন্তু এখানে এসে পরিবার নিয়ে এক মুহূর্ত স্বস্তিতে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যায় না।”

তিনি বলেন, “চারদিকে শুধু ময়লার স্তূপ, টয়লেটের চরম সংকট এবং নিরাপত্তার অভাব।”

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, পর্যটকের ভিড়ে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বাড়ে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় পুরো এলাকার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উন্নয়নের উদ্যোগ

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটন খাতের উন্নয়নে নিরাপদ পর্যটন জোন ও ‘ক্লিন সীতাকুণ্ড’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে অভিযান ও নজরদারি চলছে।