বাগেরহাটের পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর তালিকায় ষাট গম্বুজ মসজিদ ও খান জাহান আলীর মাজারের পাশাপাশি রয়েছে তুলনামূলক কম পরিচিত কিছু পুরাকীর্তি। প্রাচীন ইটের নির্মাণ, শিখরধর্মী স্থাপত্য ও নিরিবিলি গ্রামীণ পরিবেশের কারণে কোদলা মঠ তেমনই একটি আকর্ষণীয় স্থান। ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক ভ্রমণে বাগেরহাট গেলে স্থাপনাটি পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
কোদলা মঠটি বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কোদলা বা অযোধ্যা গ্রামে, প্রাচীন ভৈরব নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি অযোধ্যা মঠ নামেও পরিচিত। বাগেরহাট শহর থেকে এটি প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে এবং যাত্রাপুর বাজার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে।
ইটের তৈরি মঠটির উচ্চতা আনুমানিক ১৮ দশমিক ২৯ মিটার। বর্গাকার ভিত্তির ওপর নির্মিত এই স্থাপনার দেয়াল বেশ পুরু। বাইরের দেয়ালে ধারাবাহিক বলয় ও উল্লম্ব অলংকরণ রয়েছে, যা মঠটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য। এর উঁচু, পিরামিডসদৃশ কাঠামো শিখরধর্মী স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য বহন করে।
মঠটির নির্মাণকাল নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা থাকলেও এটি সাধারণভাবে সপ্তদশ শতকের স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মঠের কার্নিশের ওপর থাকা একটি বাংলা লিপির ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, কোনো এক ব্রাহ্মণ দেবতা তারক ব্রহ্মের উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে স্থাপনাটির নির্মাণ-ইতিহাস নিয়ে সব তথ্য সমানভাবে নিশ্চিত নয়।
প্রাচীন স্থাপত্যের পাশাপাশি মঠটির চারপাশের গ্রামীণ পরিবেশও ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করতে পারে। সবুজ প্রকৃতি, ভৈরব নদের কাছাকাছি অবস্থান এবং পুরোনো ইটের স্থাপত্য মিলিয়ে ছবি তোলা ও ঐতিহ্যভিত্তিক ভ্রমণের জন্য জায়গাটি উপযোগী।
বাগেরহাট ভ্রমণের সময় কোদলা মঠের সঙ্গে জেলার অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঘুরে দেখা যায়। এতে একই ভ্রমণে অঞ্চলটির স্থাপত্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থানীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
প্রাচীন পুরাকীর্তি হওয়ায় মঠের দেয়ালে লেখা বা খোদাই করা, ইট স্পর্শ করে ক্ষতি করা এবং আশপাশে ময়লা ফেলা থেকে পর্যটকদের বিরত থাকা জরুরি। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে দর্শনার্থীদের সচেতন আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।