ঈদুল আজহার ছুটিতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধ এলাকা ও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রে নেমেছে মানুষের ঢল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে নদীপাড়ের পুরো এলাকা। মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশি, খোলা বাতাস ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, এখলাছপুর নয়াকান্দি হার্ডপয়েন্ট, মোহনপুর ও আমিরাবাদ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করেন মেঘনা পাড়ে।

দর্শনার্থীদের যাতায়াতে ছিল নানা ধরনের যানবাহনের উপস্থিতি। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, ভ্যান, নছিমন, ভটভটি ছাড়াও ট্রলার ও নৌকায় করেও মানুষকে আসতে দেখা গেছে। ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয়দের কাছে ‘মতলবের মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত এই মেঘনা পাড় এখন ঈদের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নদীভাঙন রোধে নির্মিত হার্ডপয়েন্ট ও গ্রোয়েন সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে রূপ নিয়েছে।

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে অস্থায়ী দোকানপাটও। ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকানে ছিল উপচেপড়া ভিড়। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকে নদীপাড়ে বসে সময় কাটান, আবার কেউ ট্রলারে চড়ে নদীর চরাঞ্চল ঘুরে দেখেন।

এদিকে অনেক তরুণকে ট্রলারে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে গান গেয়ে আনন্দ করতে দেখা গেছে। ষাটনল লঞ্চঘাট ও হার্ডপয়েন্ট এলাকায় অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকা প্রস্তুত রেখেছিলেন মাঝিরা। দর্শনার্থীদের চাহিদা বাড়ায় দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেন তারা।

তবে বিপুল মানুষের সমাগমের তুলনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা ও শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। সন্ধ্যার পরও গ্রোয়েন ও হার্ডপয়েন্ট এলাকায় অসংখ্য মানুষ অবস্থান করতে দেখা যায়। দর্শনার্থীদের দাবি, এখানে সোলার লাইট স্থাপন, নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি এবং পর্যটনবান্ধব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দর্শনার্থী হাসিবুর রহমান শান্ত বলেন, “মেঘনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই দারুণ। বিশেষ করে সূর্যাস্তের দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায়।”

আরেক দর্শনার্থী সুমাইয়া আক্তার তাবাসুম বলেন, “এত সুন্দর খোলামেলা জায়গা আশপাশে খুব কম আছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মতলব উত্তরের মেঘনা পাড় ও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র দেশের অন্যতম নদীকেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, উন্নত অবকাঠামো ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ।

ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকেই সামনে এনেছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা, বসার ব্যবস্থা, সোলার লাইট, পার্কিং ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে আলোচনা চলছে।