শুধু ঘোরাঘুরি নয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় বেড়াতে গিয়ে এখন অনেক বিদেশি পর্যটক ভ্রমণসূচিতে যুক্ত করছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষাও।
তুলনামূলক কম খরচ, অল্প সময়েই পরীক্ষার ফল এবং ইংরেজি ভাষায় সেবার কারণে দেশটি দ্রুতই চিকিৎসা পর্যটনের অন্যতম বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে সিউলে যাওয়া লিপিং চাও শহরে পৌঁছে পর্যটনকেন্দ্রে না গিয়ে সরাসরি যান একটি মেডিকেল সেন্টারে। সেখানে তিনি রক্ত পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড ও এন্ডোস্কোপিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। এটি জরুরি চিকিৎসা নয়, বরং তাঁর ভ্রমণ পরিকল্পনারই একটি অংশ।
চাওয়ের মতো বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দেশটিতে দ্রুত বাড়ছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালে প্রায় ২০ লাখ ১০ হাজার বিদেশি রোগী দেশটিতে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি রোগী এসেছেন চীন ও জাপান থেকে। এরপর রয়েছে তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় চিকিৎসা পর্যটনের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো কম খরচ ও দ্রুত সেবা। অনেক দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে চিকিৎসকের রেফারেল, বিমা অনুমোদন এবং দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন হয়। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক মেডিকেল সেন্টারে একদিনেই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব।
২০২৫ সালের ‘সিইওওয়ার্ল্ড হেলথকেয়ার ইনডেক্স’ অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। সরকার চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখায় অনেক পরীক্ষার খরচও তুলনামূলক কম।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে একটি এমআরআই পরীক্ষার খরচেই দক্ষিণ কোরিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ শরীরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব। এমনকি বিমানভাড়া যোগ করলেও মোট ব্যয় অনেক সময় কম পড়ে।
হংকংয়ের বাসিন্দা হিদার বার্লো জানান, নিজের স্বাস্থ্যগত কিছু সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। তাঁর মতে, একই ধরনের পরীক্ষা হংকংয়ে করাতে তিন থেকে চার গুণ বেশি খরচ হতো।
অনেক বিদেশির মতো লিপিং চাওও বন্ধুদের অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখে দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে আগ্রহী হন। তিনি প্রায় ৪ লাখ ৫৬ হাজার ওন খরচ করে তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা শেষ করেন। এমনকি পরীক্ষার সময় পাকস্থলীতে পলিপ ধরা পড়ায় সেটিও অপসারণ করা হয়।
নিউইয়র্কপ্রবাসী কোরিয়ান-আমেরিকান রেবেকা গ্ল্যাডস্টোনও সিউলে একটি পূর্ণাঙ্গ নারী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। তিনি জানান, মাত্র একবার হাসপাতালেই গিয়ে এত বিস্তৃত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা তাঁর কাছে বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা ছিল।
ভাষাগত সমস্যার কথা মাথায় রেখে অনেক হাসপাতাল ও মেডিকেল কনসিয়ার্জ প্রতিষ্ঠান দোভাষীর ব্যবস্থাও করে। ফলে বিদেশি রোগীরা সহজেই চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পরীক্ষার ফলও পরে ইংরেজি ভাষায় ই-মেইলে পাঠানো হয় এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালেও রেফার করা হয়।