একদিন পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে উদযাপিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। কিন্তু উৎসবের এই ব্যস্ত সময়েও কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিউমার্কেট চত্বরজুড়ে নেই প্রত্যাশিত ক্রেতার ভিড়। বিশেষ করে বাংলাদেশি পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এবার জমে ওঠেনি কলকাতার ঈদবাজার। ফলে হতাশ ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার নিউমার্কেট, নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের পাইকারি-খুচরা বাজারগুলো বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ঈদকে ঘিরে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি পর্যটক কলকাতায় কেনাকাটা করতে যান। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিক্রিও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে ঈদবাজারে।
বর্তমানে নিউমার্কেট চত্বর ও নাখোদা মসজিদ এলাকার বাজারগুলোতে হাতেগোনা কিছু বাংলাদেশি ক্রেতার দেখা মিলছে। ফলে স্থানীয় ক্রেতাদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে দোকানিদের। কিন্তু কোরবানির প্রস্তুতি ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে স্থানীয়দের কেনাকাটার আগ্রহও তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কলকাতা নিউমার্কেটের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী রাজেশ তিওয়ারি বলেন, “বাংলাদেশি পর্যটক অনেক কম আসছে। আগে ঈদের সময় ভালো ব্যবসা হতো। এখন সেই পরিবেশ নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যেসব সমস্যা আছে, সেগুলোর সমাধান হলে আবারও বাংলাদেশিদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছি।”
নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র পোশাক ব্যবসায়ী জামিল আহমেদ মীর বলেন, “ঈদুল আজহায় যতটা ব্যবসার আশা করি, এবার তা হয়নি। আগে বাংলাদেশি ক্রেতারা বড় সংখ্যায় আসতেন। গত কয়েক বছরে সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এখন স্থানীয় ক্রেতাদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীদের মতে, সীমান্ত ভ্রমণ জটিলতা, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং পর্যটক যাতায়াতে অনিশ্চয়তার কারণে কলকাতার বাজারে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি কমেছে। এর ফলে ঈদ মৌসুমেও প্রত্যাশিত বিক্রি পাচ্ছেন না তারা।
একসময় ঈদের আগে নিউমার্কেট এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ত। এবার সেই চেনা দৃশ্য প্রায় অনুপস্থিত। ফলে উৎসবের মৌসুমেও কলকাতার অন্যতম বড় বাজারে বিরাজ করছে অনেকটাই নিস্তব্ধতা।