ছোটবেলার তিন বান্ধবী— আইরীন জাহান মীম, ইসরাত জাহান ইমা ও নাসরিন আক্তার মুক্তা। একসঙ্গে কক্সবাজার ঘুরতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই ভ্রমণ শেষে দুই বান্ধবী ফিরলেও মুক্তার ফেরা হয়নি। উখিয়ার ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নেয় তার প্রাণ।
রিসোর্টটির অবস্থান পাটুয়ারটেক এলাকায়, মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে। বৃহস্পতিবার তিন বান্ধবী উঠেছিলেন ওই রিসোর্টে। 

তাদের পরিকল্পনা ছিল, সকালে ঘুম থেকে উঠে একসঙ্গে সূর্যোদয় দেখবেন। কিন্তু সেদিন ফজরের নামাজের পর মীম ও ইমা বের হওয়ার সময় মুক্তা তাদের সঙ্গে যেতে পারেননি। ঘুম ঘুম চোখে তিনি দুই বান্ধবীকে বলেছিলেন, তারা যেন ঘুরে আসেন, তিনি আরেকটু ঘুমাবেন।

ঘটনার পর বিবিসিকে ঘটনার বিবরণে মীম বলেন, কিছুক্ষণ ঘুরে রিসোর্টে ফিরে এসে তারা দেখেন, সেখানে আগুন জ্বলছে। দ্রুত তারা চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করতে থাকেন। রিসোর্টের কেয়ারটেকার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন। তখন মীম ও ইমা তাকে জানান, তাদের বান্ধবী মুক্তা ওপরের কক্ষে আছেন। ভেতরে আরও মানুষ আটকে রয়েছেন, তাদের দ্রুত বের করার অনুরোধ করেন তারা। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। 

মীমের ভাষ্য, আগুন নেভানোর চেষ্টার মধ্যেই প্রথমে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে, এরপর আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকলে দুই বান্ধবী নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। তারা মুক্তাকে ডাকছিলেন, ইমা বারবার ফোনও করছিলেন। কিন্তু মুক্তার সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।
রিসোর্টের ওপরের অংশে কাচ ও কাঠের কাঠামো এবং শব্দ বাইরে না যাওয়ার পরিস্থিতির কারণে ভেতরে থাকা মানুষের কাছে তাঁদের চিৎকার পৌঁছাচ্ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেননি তারা।
শেষ পর্যন্ত মুক্তাকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন নিহত হন। আগুনে মরদেহের অবস্থা এমন হয়েছিল যে অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মুক্তার মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি বলে বিবিসি বাংলাকে জানান তাঁর স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজার পৌঁছে তিনি নিজেই মরদেহ শনাক্ত করার চেষ্টা করতে যাচ্ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, অন্য কেউ চিনতে না পারলেও তিনি স্ত্রীকে চিনতে পারবেন।
একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া তিন বান্ধবীর সেই ভ্রমণ তাই শেষ হয় গভীর শোক আর অনিশ্চয়তায়। দুই বান্ধবী ফিরে পেলেন জীবন, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে আর ফিরতে পারলেন না ছোটবেলার সঙ্গী মুক্তা।