ভ্রমণপ্রেমীরা এখন শুধু ঘোরাঘুরির স্মৃতি ধরে রাখতেই স্যুভেনির কিনছেন না, বরং নির্দিষ্ট গন্তব্যের বিশেষ পণ্য সংগ্রহের মাধ্যমে নিজেদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাও তুলে ধরছেন। কোনো সুপারমার্কেটের বিশেষ টোট ব্যাগ কিংবা বিলাসবহুল হোটেলের লোগোযুক্ত ক্যাপ—এসবই হয়ে উঠছে ভ্রমণের পরিচয় প্রকাশের নতুন উপায়।

বিমানবন্দরের উপহারের দোকান থেকে তাড়াহুড়ো করে স্যুভেনির কেনার দিন এখন অনেকটাই পেছনে। ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় পাওয়া যায়, এমন পণ্য কেনা এখন ভ্রমণ অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্কাইস্ক্যানারের সর্বশেষ ভ্রমণ প্রবণতা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই পরিবর্তন।
এই প্রবণতার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিলগ্রা-মার্চ’। ফ্যাশন মনোবিজ্ঞানী শাকাইলা ফোর্বস-বেলের মতে, এটি সহস্রাব্দ প্রজন্মের জনপ্রিয় ধারণা ‘ছবি দেখাও, নইলে ঘটনা ঘটেনি’—এরই নতুন সংস্করণ। খবর: ইউরো নিউজ

তার ভাষ্য, ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো এখন রহস্যময় পণ্যের ব্যাগ থেকে শুরু করে অস্থায়ী বিশেষ দোকান—বিভিন্ন অভিনব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। এসব পণ্যের খবর জানতে অনেক সময় নির্দিষ্ট কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়।
এই কমিউনিটিনির্ভর প্রবণতাই কোনো পণ্যকে আকাঙ্ক্ষিত করে তোলে। একটি ব্যাগ, মগ কিংবা অন্য কোনো পণ্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন সেটি সম্পর্কে কেবল প্রকৃত ভ্রমণপ্রেমীরাই জানেন। এতে মানুষের কোনো গোষ্ঠীর অংশ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে, আর পণ্যটির আকর্ষণও বৃদ্ধি পায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে ২৩ শতাংশ ভ্রমণকারী এমন পণ্য কেনার জন্য ভ্রমণ করেছেন, যা অনলাইনে পাওয়া যায় না। জেনারেশন জেডের ২৮ শতাংশ সীমিত সংস্করণের সুপারমার্কেট টোট ব্যাগ কিনে সবচেয়ে গর্বিত বোধ করেন। অন্যদিকে, সহস্রাব্দ প্রজন্মের ২২ শতাংশ বিলাসবহুল হোটেলের লোগোযুক্ত বাথরোব বা ক্যাপ প্রদর্শন করতে পছন্দ করেন।
কোথায় মিলবে বিশেষ ভ্রমণ-স্মারক?
স্কাইস্ক্যানারের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেডার জো’স সুপারমার্কেটের টোট ব্যাগ এবং রিটজ প্যারিস হোটেলের পণ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আরও ব্যতিক্রমী সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়।

জাপানের ফ্যামিলিমার্ট চেইন গত মাসে দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারকে প্রতিনিধিত্ব করে এমন ৪৭ ধরনের মোজা প্রকাশ করেছে। প্রতিটি প্রিফেকচারের নির্দিষ্ট ফ্যামিলিমার্ট দোকানেই সংশ্লিষ্ট মোজা পাওয়া যায়। ফলে ভ্রমণকারীরা কম পরিচিত অঞ্চল ঘুরে সেখানকার বিশেষ পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
তবে শুধু ব্র্যান্ডের নামযুক্ত পণ্য সংগ্রহের বদলে প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়, এমন স্থানীয় পণ্য কেনাকেও ভালো বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইসল্যান্ডে হ্যান্ডনিটিং অ্যাসোসিয়েশনের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় স্থানীয়ভাবে তৈরি ১০০ শতাংশ উলের সোয়েটার ও কার্ডিগান। লাটভিয়ার রিগায় SENĀ KLĒTS দোকানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নকশায় বোনা মিটেন বা হাতমোজা, যেগুলোর নকশায় রয়েছে প্রতীকী অর্থ।
আবার গরমের মৌসুমে গ্রিসের এথেন্সে মেলিসিনোস স্যান্ডালস থেকে নিজের পছন্দমতো তৈরি স্যান্ডেল সংগ্রহ করা যায়।
সব মিলিয়ে, ‘পিলগ্রা-মার্চ’ শুধু কেনাকাটার প্রবণতা নয়; এটি ভ্রমণকে আরও ব্যক্তিগত ও স্মরণীয় করে তোলার একটি নতুন উপায়। তবে সবচেয়ে ভালো স্মারক হতে পারে এমন কিছু, যা শুধু ভ্রমণের গল্পই বলে না, দৈনন্দিন জীবনেও কাজে লাগে।