পর্যটকদের মধ্যে ২০২৭ সালে আরও ঘন ঘন কিন্তু স্বল্প সময়ের ভ্রমণের প্রবণতা বাড়বে। পাশাপাশি জনপ্রিয় হবে ‘গ্রোথ গেটঅ্যাওয়ে’, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো এবং ভ্রমণের মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন।

গ্লোবাল হসপিটালিটি কোম্পানি হিলটনের ২০২৭ ট্রেন্ডস রিপোর্টে এমন পূর্বাভাস উঠে আসার খবর দিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউরো নিউজ।

খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ হাজার পর্যটকের ওপর জরিপ চালিয়ে হিলটন পাঁচটি বড় ট্রাভেল ট্রেন্ড চিহ্নিত করেছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা এ জরিপে অংশ নেন। হিলটন এই পরিবর্তনকে বলছে ‘দ্য গ্রেট রিব্যালান্স’।

এর অন্যতম প্রধান প্রবণতা ‘মাইক্রো-ট্রাভেল’। অর্থাৎ দীর্ঘ ছুটির বদলে মানুষ এমন ছোট ও ঘন ঘন ভ্রমণ বেছে নিচ্ছেন, যা কাজ ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়। জরিপে ২৫ শতাংশ বলেছেন, কাজের সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে তারা ছোট ভ্রমণ করেন। ২৯ শতাংশের কাছে এর প্রধান সুবিধা হলো তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রমণের সুযোগ।

মাইক্রো-ট্রাভেলারদের মধ্যে আবার দুটি ধরন রয়েছে। ‘সিলেক্টররা’ একটি নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ করেন—যেমন কনসার্ট, খেলাধুলার আয়োজন বা কোনো রেস্তোরাঁ। আর ‘স্ট্যাকাররা’ একই ভ্রমণে যত বেশি সম্ভব অভিজ্ঞতা ও জায়গা যুক্ত করতে চান। জরিপে ৫৭ শতাংশ এক ভ্রমণে একাধিক শহর ঘুরতে পছন্দ করেন।

আরেকটি প্রবণতা হলো ‘ইশ’—অর্থাৎ ছুটি একেবারে নিখুঁত না হলেও সেটিকে উপভোগ করা। কেউ স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কিছু অংশ ধরে রাখছেন, কেউ নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই অ্যাডভেঞ্চারে যাচ্ছেন, আবার কেউ একা ভ্রমণ করেও গন্তব্যে পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করছেন।

‘গ্রোথ গেটঅ্যাওয়ে’-এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। ভাষা, রান্না বা শিল্পকলার মতো বিষয়ে ক্লাস করে ভ্রমণের পাশাপাশি নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রবণতা বাড়ছে।

এদিকে ‘ওয়েলনেস, রিওয়্যার্ড’ ট্রেন্ডে প্রকৃতির গুরুত্ব বাড়ছে। জরিপে ৭৯ শতাংশ বলেছেন, মানসিকভাবে স্বস্তি পেতে খোলা বাতাস ও প্রকৃতি অপরিহার্য। অর্ধেকের বেশি মানুষ বাড়ির তুলনায় ছুটিতে প্রকৃতির মাঝে বেশি সময় কাটান।

সবশেষে, ভ্রমণ পরিকল্পনায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও মানুষের পরামর্শের ওপর আস্থা এখনও বেশি। ৭০ শতাংশ হোটেল কর্মীদের পরামর্শে এবং ৮৭ শতাংশ পরিবারের সদস্যদের সুপারিশে আস্থা রাখেন।