বিমানে ভ্রমণ সব সময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। কোনো যাত্রী রেগে গিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে কিংবা মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। অধিকাংশ ফ্লাইট নির্বিঘ্নে চললেও মাঝআকাশে যাত্রীদের মধ্যে হাতাহাতি কিংবা উড্ডয়নের আগেই শুরু হওয়া বিরোধ পরে চলতে থাকার ঘটনা একেবারে বিরল নয়।
কিন্তু কোনো ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং ফ্লাইটের গন্তব্য পরিবর্তন বা জরুরি অবতরণের প্রয়োজন হলে কী ঘটে?
ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্লটসএলভি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রায়ানএয়ারের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট নাওমি রোতলো জানিয়েছেন, গুরুতর কোনো ঘটনার কারণে উড়োজাহাজ আগেভাগে অবতরণ করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত কেবিন ক্রুরা নেন না। এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা পাইলটের।
নাওমির সাক্ষাতের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রা লিখেছে, কেবিন ক্রুরা পরিস্থিতি সম্পর্কে পাইলটকে জানান। এরপর অবতরণের পর বিমানবন্দরে পুলিশকে উপস্থিত থাকতে বলা হবে কি না, তা পাইলট নির্ধারণ করেন। শারীরিক সহিংসতা, হুমকি কিংবা ফ্লাইটের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন আচরণ হলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
কোন আচরণে ফ্লাইটের গন্তব্য পরিবর্তন হতে পারে?
সব ধরনের অসদাচরণের কারণে উড়োজাহাজের গন্তব্য পরিবর্তন বা অনির্ধারিত অবতরণ করতে হয় না। তবে যাত্রীর আচরণে অন্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়লে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
নাওমির ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো যাত্রী কেবিন ক্রু বা অন্য যাত্রীর ওপর সহিংস আচরণ করলে, নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা এমন পরিস্থিতি তৈরি করলে, যা ক্রুরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না, তখন ফ্লাইটের গন্তব্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের সবার নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে পাইলট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।
বিমানে দুই যাত্রীর মধ্যে মারামারি হলে কী ঘটে?
দুই যাত্রীর মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে কেবিন ক্রুরা প্রথমে তাদের আলাদা করার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে অন্য যাত্রীদের নিজ নিজ আসনে বসে থাকতে বলা হয়। এরপর পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধান কেবিন ক্রু ও পাইলটকে জানানো হয়।
নাওমি জানান, সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের আচরণ বন্ধ করার জন্য স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়। এরপরও তারা একই আচরণ চালিয়ে গেলে অবতরণের পর বিমানবন্দরে পুলিশকে ডাকা হতে পারে। সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের আসন পরিবর্তন করা হয় এবং বাকি যাত্রাপথে তাদের ওপর নজর রাখা হয়। অবতরণের পর ঘটনার লিখিত প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়।
আক্রমণাত্মক যাত্রীদের সামলান যেভাবে
নাওমির মতে, কেবিন ক্রুদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ এবং প্রতিবছরের পুনঃপ্রশিক্ষণে বিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল শেখানো হয়। তাদের শান্ত থাকতে, নিচু ও স্থির স্বরে কথা বলতে, আগে মনোযোগ দিয়ে শুনতে এবং স্পষ্ট ও ভদ্রভাবে নির্দেশনা দিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই উত্তেজনা কমানো এবং অন্য যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।