লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সাজু মোল্লার ঘাট এখন স্থানীয়দের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় অবকাশযাপনের স্থান হয়ে উঠছে। নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি, শীতল বাতাস, নৌকার চলাচল ও সবুজ প্রকৃতির টানে প্রতিদিন এখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ঘাটটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’।
একসময় মাছ কেনাবেচার জন্য পরিচিত এই ঘাটে এখন বিকেল হলেই বাড়ে মানুষের আনাগোনা। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করেন প্রকৃতি। নদীপাড়ের খাবারের দোকান, চায়ের স্টল ও বসার স্থানও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
ঘাটের সৌন্দর্য ধরে রাখা, বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দেওয়া এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং অন্তত একটি গাছ লাগাতে উৎসাহিত করবে।
দর্শনার্থীদের প্রতি প্রশাসনের আহ্বান, স্থানটিকে নিজেদের সম্পদ মনে করে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ইউছুফ বলেন, “মেঘনার পাড়ের পরিবেশটা বেশ সুন্দর। নদীর বাতাস আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ভালো লাগে। পরিবার নিয়ে কিছু সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয়। তবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও নিরাপত্তার দিকে আরও নজর দেওয়া হলে ভালো লাগবে।”
আরেক দর্শনার্থী খয়ের বলেন, বিকেলে নদীর পাড়ে এলে মন ভালো হয়ে যায়। ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’-এর মতো উদ্যোগ মানুষকে সচেতন করতে পারে। একই সঙ্গে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং গাছ লাগানোর বিষয়েও সবার ভাবা উচিত।
স্থানীয় তরুণ আবু সুফিয়ানের মতে, বন্ধুদের সঙ্গে অবসর কাটানোর জন্য জায়গাটি ভালো। তবে সৌন্দর্য ধরে রাখতে সবাইকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে হবে।
দর্শনার্থীদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে খাবারের দোকান, চায়ের স্টল ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এক খাবারের দোকানের মালিক আবুকালাম বলেন, দর্শনার্থীদের যাতায়াতের কারণে খাবার ও চা-নাশতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। জায়গাটি আরও পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হলে মানুষের আগমন বাড়বে এবং ব্যবসার সুযোগও বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাজু মোল্লার ঘাট লক্ষ্মীপুরের গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নিরাপদ চলাচল, মানসম্মত বসার স্থান, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নদীপাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মেঘনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় ব্যবসার সম্ভাবনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে সাজু মোল্লার ঘাট রায়পুরের পর্যটন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি দর্শনার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।