মাল্টায় ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) বৈশ্বিক সম্মেলনের ফাঁকে দুবাই বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী (সিইও) পল গ্রিফিথস বলেন, আগামী এক দশকে ভ্রমণ খাতের বিকাশে আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তার মতে, উড়োজাহাজ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ছোট আকারের বিমানও এখন দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম হচ্ছে। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে মানুষের ভ্রমণের ধরন ও চিত্র বদলে দেবে। খবর: ইউরো নিউজ।
বিমানবন্দরের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাস দেখানোর প্রয়োজন কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর জন্যও তৈরি হতে পারে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ।
বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় গ্রিফিথস বলেন, আগামী এক দশকে আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের বড় সুযোগ তৈরি হবে। সরু দেহের উড়োজাহাজ এখন আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে তুলনামূলক ছোট গন্তব্যেও যেতে পারে। ফলে বড় উড়োজাহাজ পূর্ণ যাত্রী নিয়ে চলাচলের ওপর নির্ভর না করেও কিছু রুট বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করা সম্ভব হবে।
তাঁর মতে, আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গে সড়ক ও অন্যান্য স্থলপথের যোগাযোগ উন্নত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে। তবে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে গুরুত্ব
বিমান চলাচলের কার্বন নিঃসরণ কমাতে টেকসই বিমান জ্বালানি বা সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন গ্রিফিথস। এ জ্বালানির উৎপাদনে বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সরকারকে এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রচলিত জ্বালানির সঙ্গে এসএএফ মেশানোর নির্ধারিত অনুপাত ধাপে ধাপে বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
পাসপোর্ট ছাড়াই বিমানবন্দরে যাত্রা?
বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ যাত্রী অভিজ্ঞতায় মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রীদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে পাসপোর্ট বা বোর্ডিং পাস দেখানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। লাগেজ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হবে এআই প্রযুক্তি।
গ্রিফিথসের মতে, প্রযুক্তির সহায়তায় নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও দ্রুত ও কম বিড়ম্বনাপূর্ণ করা সম্ভব। তবে এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো নয়; বরং যাত্রীদের জন্য আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও মানবিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।