ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকায় পরিকল্পিত অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীতীরের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন বিকেলে ভিড় করেন কয়েক হাজার দর্শনার্থী। তাঁদের বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন ও কর্মসংস্থান বিকাশের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মুন্সীগঞ্জ শহরে পরিবার নিয়ে অবসর কাটানোর মতো উন্মুক্ত স্থান সীমিত। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী লঞ্চঘাট এলাকা শহরবাসী ও আশপাশের মানুষের বিকেল কাটানোর অন্যতম জায়গা হিসেবে পরিচিত। নদীতে বড় বড় লঞ্চের চলাচল, নদীর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে এখানে আসেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরে ঘাট এলাকার কিছু জায়গা অবৈধ দখলে ছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসন ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে এলাকাটি দখলমুক্ত করা হয়।

লঞ্চঘাটে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, শহরে পরিবার নিয়ে অবসর কাটানোর মতো উন্মুক্ত জায়গা খুবই সীমিত। ঘাট এলাকায় পরিকল্পিত অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে এটি শহরবাসীর প্রধান বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তিনি সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

মুন্সীগঞ্জ নাগরিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক আইনজীবী সুজন হালদার জনি বলেন, নদীতীরের দখলমুক্ত জায়গায় বসার ও হাঁটার ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, সবুজায়ন এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা যুক্ত করা হলে শহরের সৌন্দর্য ও বিনোদনের সুযোগ বাড়বে।

জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত জায়গাটিতে নান্দনিক ও পরিকল্পিত অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে হাঁটা, বসা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান বলেন, লঞ্চঘাট এলাকায় ৩২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখলদারদের সরানো হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে এলাকাটির উন্নয়ন করা হবে। তাঁর মতে, পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মৌসুমী মাহবুব জানান, শহরের প্রবেশমুখে লঞ্চঘাট এলাকায় একটি আধুনিক তোরণ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তোরণ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে নদীর সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ শহরে পরিবারবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র তৈরি হতে পারে। তবে পর্যটনকেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ নকশা, নির্মাণ ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।