পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য থেকে সমুদ্রসৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছেন ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে ‘পর্যটনে তারুণ্যের উৎসব’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডরা অংশ নেন। সৈকত থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি পর্যটনসম্পদ সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানো ছিল এ কার্যক্রমের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। পরিবেশ সুন্দর ও দূষণমুক্ত থাকলে পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পর্যটকদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পর্যটনশিল্পের টেকসই উন্নয়নে তরুণদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের এ ধরনের উদ্যোগ সৈকত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পর্যটনসম্পদ সংরক্ষণে মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সদস্য নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা কুয়াকাটায় আসেন। সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই তাঁদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা হলে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটার (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য সামুদ্রিক প্রাণী ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সৌন্দর্য রক্ষার বিষয় নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ উপকূল নিশ্চিত করারও অংশ।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, পর্যটকদের সচেতন করা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সৈকতের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং পর্যটক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে কুয়াকাটার পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও উপকৃত হবে।

কর্মসূচিতে কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম শাহিন, সহকারী অধ্যাপক মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারসহ স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।